নিউজ ডেস্ক: বেআইনিভাবে কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানাল বম্বে হাই কোর্ট। তবে, এই ধরনের আটকের অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য আদালতের সামনে পেশ করতে হবে বলে আবেদনকারীকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার, প্রধান বিচারপতি মহেশচন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বেআইনি আটকের বিষয়টি আদালত গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলে, সেই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট উদাহরণ ও তথ্য আদালতের নজরে আনতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে আদালত।
গত ১০ অক্টোবর বিরাট প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধী নেতা ও কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেড, পুলিশি নজরদারি এবং জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের কারণে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষকে আটক করার দাবিও করেছে সিজেপি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপে মুক্তি পান তাঁরা।
দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একাধিক বিধিনিষেধ ও ধরপাকড়ের অভিযোগের মধ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের আশপাশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি সংক্রান্ত নোটিসও অবিলম্বে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। শুনানিতে আদালত জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রয়োজনে যান চলাচল ও মানুষের জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে তার জন্য সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার খর্ব করা চলবে না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যে ব্যারিকেড একান্ত প্রয়োজনীয় নয়, সেগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে।