কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণে নতুন করে কোন বার্তা উঠে আসতে চলেছে? বাণিজ্য থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, জ্বালানি থেকে প্রতিরক্ষা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা ঘিরে নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের। বিশেষ করে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিবিদদের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আবহে আসন্ন এই সম্পর্কে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরে কোন কোন বিষয়ে অগ্রগতি হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
কানাডার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ১৩ থেকে ১৬ অক্টোবর ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরে আসছেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর এই সফরের ঘোষণা করেছেন তিনি। ভারত সফরকালে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার রোডম্যাপ এ যে বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে দুই বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অনিতা আনন্দ ও জয়শঙ্করের মধ্যে এটি হতে চলেছে একাদশতম বৈঠক। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বজায় থাকার বিষয়টি এই ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে উঠে এসেছে। কূটনৈতিক মহলের নজর রয়েছে এই সফরের দিকে। তবে, আসন্ন আলোচনাই ঠিক কি কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ঘোষণায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, ভারত সফরের সময় নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ব্লুমবার্গ নিউ ইকনোমি ফোরামে অংশ নেবেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী। সেখানে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির ভূমিকা নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনায় যোগ দেবেন তিনি। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে অনিতা আনন্দের এই ভারত সফর কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। পাশাপাশি, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করবেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী। তবে, বৈঠক শেষে দীপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি ধরনের অগ্রগতি সামনে আসে এবং আলোচনার বিষয়গুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, আন্তর্জাতিক মহলের সেদিকেই নজর থাকবে।দেবেন তিনি।