নয়াদিল্লি: প্রতিবাদের মঞ্চ যন্তর মন্তর আর বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল দিল্লিতে। মঙ্গলবার সকালে যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন Cockroach Janta Party (CJP)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা-সহ দলের কয়েকজন কর্মী। পুলিশের বাধা এড়াতে লোহার গেট ও ব্যারিকেড টপকে নির্ধারিত এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। পরে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র হয়েছে প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক।
সোমবার যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকালেই সেখানে পৌঁছে যান CJP-র কর্মীরা। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমাজমাধ্যমে বিক্ষোভের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেই ভিডিয়োতে দেখা যায়, হাতে পতাকা নিয়ে কয়েকজন কর্মী গেট টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায় ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় বলে জানান অভিজিৎ দীপকে।
https://x.com/HJP2029_2036/status/2109867197279674776?s=20
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দীপকে লেখেন, “প্রতিরোধকে নিষিদ্ধ করা যায় না।” তাঁর বক্তব্য, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি থেকে সরিয়ে দিলেই প্রতিবাদ থেমে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন প্রতিবাদের কেন্দ্র গড়ে উঠবে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের অন্যতম পরিচিত ঠিকানা ছিল। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ ও অবস্থানের জন্য তিনটি নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট INDIA এবং CJP-র প্রতিবাদের আবহেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে পৌঁছনোর পর অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।
যন্তর মন্তর থেকে প্রতিবাদের মঞ্চ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে কি আন্দোলন থামবে, নাকি আরও বড় আকার নেবে প্রতিবাদ? আপাতত সেই প্রশ্নেই উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি।
