নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রুখতে কড়া পদক্ষেপ করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের সূত্রের দাবি, জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশিত প্রায় ৩০০টি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই তথ্য সামনে আসে।
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনও মিথ্যা তথ্য বা গুজবের কারণে পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।
AI দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, গ্রেফতার ২৪ বছরের যুবক
এই পদক্ষেপের কয়েক দিন আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে একটি ভুয়ো ভিডিও তৈরি ও ছড়ানোর অভিযোগে ২৪ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযোগ, ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছিল যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন এক পুলিশকর্মী এক মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থা করছেন। পুলিশের দাবি, ভিডিওটি ছিল সম্পাদিত ও মনগড়া এবং AI প্রযুক্তির সাহায্যে সেটি তৈরি করে প্রচার করা হয়েছিল।
এই ধরনের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং চলমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা পুলিশের। তবে ভিডিওটির উৎস, তৈরির উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও আলাদা বিষয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়াচ্ছে পুলিশ
দিল্লি পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব পোস্টে গুজব ছড়ানো বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে সরানো ৩০০টি পোস্টের সবকটিই যে একই ধরনের বিষয়বস্তু ছিল, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি কোন কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে পোস্টগুলি সরানো হয়েছে, সেই সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
বিক্ষোভের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব
রাজধানীতে প্রতিবাদ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও ভিডিও বা পোস্ট শেয়ার করার আগে তার উৎস ও সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে AI দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও এবং সম্পাদিত দৃশ্যকে আসল ঘটনা হিসেবে প্রচার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য অনলাইনে গুজবের বিস্তার রোখা বলে সূত্রের দাবি। তবে একই সঙ্গে তথ্যের সত্যতা যাচাই, আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
