নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দায় ভেসে উঠেছে একের পর এক ভিডিও। কোথাও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, কোথাও অশান্তির দৃশ্য আবার কোথাও এমন কিছু ঘটনা, যা দেখে মুহূর্তের মধ্যেই সৃষ্টি হতে পারে আতঙ্ক। কিন্তু, পর্দায় দেখা সেই দৃশ্যের সঙ্গে বাস্তবে আদৌ কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি? নাকি অন্য কোনও সময়ের ঘটনা কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি? এই প্রশ্নগুলির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
ভাইরাল হওয়ার ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করে, তা শেয়ার করার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লী পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে যেগুলি অতীতের ঘটনার দৃশ্য। এমনকি, অন্য রাজ্যে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার ছবি কিংবা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরিও হতে পারে। এই ধরনের ভিডিও ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অশান্তি ও উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশের বার্তায় স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, কোনও পোষ্টের সত্যতা যাচাই না করে সেটি ফরওয়ার্ড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে সংবেদনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ভিডিও সামনে এলে, তার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র কোনও দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুবার শেয়ার হচ্ছে বলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
https://www.facebook.com/share/p/1FLcgPGVjR/
এখানেই শেষ নয়, বিভ্রান্তিকর এবং যাচাই না করা পোস্ট ছড়ানোর ক্ষেত্রে আইনি পরিনিতির বিষয়টিও মনে করিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এই ধরনের পোস্ট শেয়ার করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে, আবেগের বসে কোনও ভিডিও বা খবর অন্যের কাছে পাঠানোর আগে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যম তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু, এই মাধ্যমেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে ভুল তথ্য। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ভিডিও ও ছবি বাস্তব ঘটনার মতো দেখানো হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ।
তাই কোনও খবর বা ভিডিও দেখার পর সেটি যাচাই না করে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম ও সরাসরি সূত্রের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের এই বার্তার মূল লক্ষ্য, গুজব বিস্তার রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অকারণে আতঙ্ক যাতে না ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়িত্বশীল আচরণই পারে বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে।