নিউজ ডেস্ক: শারদোৎসবের মুখে তিলোত্তমার রাজপথে নেমে এসেছে রঙের ফোয়ারা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ উড়ালপুল রাঙিয়ে তোলা হয়েছে রামধনুর সাতটি উজ্জ্বল রঙে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের এই চোখধাঁধানো সাজ ইতিমধ্যেই পথচলতি মানুষের নজর কাড়ছে। তবে পিচের রাস্তায় এই রামধনু রং ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি ও সামাজিক মাধ্যমে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার ফ্লাইওভার জুড়ে আঁকা হয়েছে বহুবর্ণিল রামধনু। উৎসবের এই রূপান্তর খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি পরিদর্শনে যান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
প্রশাসনের দাবি, ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দুর্গাপূজাকে আরও রঙিন ও উৎসবমুখর করে তুলতেই এই অভিনব পদক্ষেপ। তবে সামাজিক মাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা ও ব্যাঙ্গাত্মক সমালোচনা।
https://x.com/Anika_Breaths/status/2109680001213710712?s=20
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, সরকার যেন সাধারণ করদাতাদের টাকায় ‘প্রাইড উইক’ উদযাপন করছে। এমনকি পোস্টটিতে ব্যঙ্গ করে প্রশাসনকে দেশের তথাকথিত ‘প্রথম এলজিবিটিকিউ মুখ্যমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রামধনু পতাকার সঙ্গে আন্তর্জাতিক এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতীকী মিল থাকায় অনেকেই এই রঙের ব্যবহারকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। তবে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অগ্রাধিকারের প্রশ্নটি।
বিরোধীদের একাংশ এবং সাধারণ নেটিজেনদের বড় একটি অংশ অভিযোগ তুলছেন সরকারি তহবিলের অপচয় নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য, উৎসবের এই দিনগুলিতে যখন রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামের বহু শিশু পুজোর নতুন জামা থেকে বঞ্চিত, বহু অভাবী পরিবার যখন নূন্যতম খাবারের সংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তার ওপর রঙের প্রলেপ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? “পেটে খিদে রেখে চকচকে রাজপথ কি আদৌ সুশাসনের পরিচয়?” এমন প্রশ্নই উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
যদিও শাসকদলের সমর্থকদের মতে, দুর্গাপূজা কেবল বাংলার ধর্মীয় আচার নয়, এটি রাজ্যের বৃহত্তম মিলনমেলা ও পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। ঢাকের আওয়াজ, প্যান্ডেল এবং আলোর পাশাপাশি শহরের রাস্তাঘাট সুন্দর করে তোলা উৎসবের আবহকেই বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।