কলকাতা, পিউ নন্দী: প্রবল বর্ষণে সাতসকালে বড়সড় বিপর্যয় কলকাতার জোড়াবাগান এলাকায়। জোড়াবাগানের ব্রজদুলাল স্ট্রীটে প্রায় দুশো বছরের পুরনো একটি বাড়ির একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে পুলিশ সহ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
ঘটনাটি মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা নাগাদ ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন আগেই পৌরসভার তরফ থেকে বাড়িটিকে বিপদজনক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিপদ মাথায় নিয়ে এই পরিতক্ত বাড়িতেই বহু মানুষ বসবাস করতেন। এই ভয়াবহ ঘটনায় আটকে পড়েন তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়েছে হলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই দিন ভোর রাতে একেবারে বিকট একটা শব্দ শুনতে পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে এসে দেখেন বহুতল বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে। তবে ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধার। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই সোমবারও হাওড়ায় শতবর্ষ প্রাচীন এটি তিন তলা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। এই ভেঙ্গে পড়া বাড়িতে একটি ঘরে আটকে ছিলেন বাড়ির বৃদ্ধ মালিক। খবর পাওয়া মাত্রই হাওড়া পুলিশ আধিকারিক সহ দমকল বাহিনী সেখানে পৌঁছায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় জানলার রড কেটে আটকে থাকা বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন তারা।
এখানেই শেষ নয়, বেশ কয়েকদিন আগে ভবানীপুর এলাকাতেও পুরনো একটি লাইব্রেরীর একাংশ ভেঙে পড়েছিল। গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টির ফলে একের পর এক পুরনো বহুতল ভেঙে পড়ছে বলে দাবি প্রশাসনের। একের পর এক এই ঘটনায় শহরের বিপদজনক বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।