নিউজ ডেস্ক: দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটার অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে পারিবারিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন। সেই সংঘাত এবার প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিবাদ নিজেদের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া উচিত। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে, এমন কথা তিনি এখনই বলতে রাজি নন।
সোমবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টাটা গোষ্ঠীর চলতি বিরোধ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, টাটা গোষ্ঠী ভারতীয় অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তাই এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে ব্যবসায়িক বিচক্ষণতা, পারস্পরিক সৌজন্য এবং নেতৃত্বের পরিণত মনোভাব থাকা প্রয়োজন। বিবাদকে প্রকাশ্যে না এনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির নিজেদের মধ্যে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।
সরকারের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্মলা সীতারামন বলেন, বিষয়টি যতই গুরুতর হোক না কেন, এখনই কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের বিরোধের নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।
উল্লেখ্য, টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিবাদ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার ও বিভিন্ন ট্রাস্টের স্তরে চলা মতবিরোধ ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ফলে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন আর শুধু কর্পোরেট মহলের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, তা রাজনৈতিক পরিসরেও জায়গা করে নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের পরিণত সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই গোষ্ঠীর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত যোগ রয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বিবাদের প্রভাব যাতে বৃহত্তর ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
তবে কেন্দ্রীয় সরকার এই মুহূর্তে সরাসরি হস্তক্ষেপের পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত অবস্থান জানাননি অর্থমন্ত্রী। আপাতত আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি। ফলে টাটা গোষ্ঠীর অন্দরের এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর শিল্পমহল থেকে রাজনৈতিক মহলের।




