নিউজ ডেস্ক: এবার সরাসরি রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ আম্বানীকে নিশানা করলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় আম্বানিদের নিশানা করে বলেন, 'এতদিন বুঝতে পারিনি ভারতের আসল ‘বস’ কে।
এক্স পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, ‘স্টারলিঙ্ক ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং গত পাঁচ বছর ধরে ভারত সরকারের প্রতিটি আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলেছে, তা হলে এখনও লাইসেন্স পায়নি কেন? ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে আম্বানিকে নিশানা করে লিখেছেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি', আপনিই যে ভারতের প্রকৃত প্রধান তা বুঝতে না পারায় দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা প্রার্থনাকে মঞ্জুর করবেন।’
https://x.com/elonmusk/status/2108604227643719745?s=20
শুধু তাই নয়, এক্স-এর অন্য একটি পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘যাঁরা স্টারলিঙ্কের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা আসলে পিছিয়ে পড়া মানুষদেরই ক্ষতি করছেন। বড় শহরের ধনী মানুষদের কাছে এমনিতেই ভালো ইন্টারনেট আছে, তাই তাঁরা এই সমস্যাটা বুঝতে পারছেন না।’
এর আগে ভারতে নিজের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ভারতীয় জনগণের জন্য সেবাটি চালুর পথে বাধা দিচ্ছেন। যদিও কোনও গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি মাস্ক।
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসার লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় গত বুধবার। এক্স-এ একজন ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু ‘অলিগার্ক’ বা ক্ষমতাধর ধনকুবের ভারতের জনগণের ওপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিঙ্ককে আটকে রাখছে। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলেও আখ্যা দেন। অদ্ভুদভাবে মাস্কের এই প্রশ্নের জবাবে রাহুল গান্ধী এক্সে লেখেন, 'ভারতে স্বাগত, এলন। অন্য জনকে খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।' রাহুল তাঁর পোস্টে সরাসরি কারও নাম করেননি। তবে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস অতীতে শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলেছিলেন।
প্রসঙ্গত, মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতে ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তা এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি । কারণ ভারত সরকারের টেলিকম মন্ত্রকের তরফে দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। এই পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতের অনেক এলাকায় এখনো ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীরাও বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না।
