নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে তেরঙ্গা হাতে বিক্ষোভ দেখানোর জেরে ককক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এবার এই ঘটনায় সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ হতে পারে না বলে দাবি করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। CJP নেতাদের গ্রেফতারির ঘটনায় এই প্রথম প্রকাশ্যে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর সকালে সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধী লেখেন, “যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তেরঙ্গা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষতার পরিচয়।” একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ, সাংবাদিক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রাহুলের বক্তব্য, বিভিন্ন সংগঠন আলাদা আলাদা ব্যানারে প্রতিবাদ করলেও তাঁদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। যন্তর মন্তরকে আবারও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে ফিরিয়ে আনার বার্তাও দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।
কী ঘটেছিল যন্তর মন্তরে?
NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে যন্তর মন্তরে ঢোকার জন্য গেট ও ব্যারিকেড টপকে ভিতরে প্রবেশ করেন CJP-র সদস্যরা। সেখানে তেরঙ্গা ওড়ানোর পাশাপাশি স্লোগান দেন তাঁরা। এরপরই দিল্লি পুলিশ ১৪ জনকে আটক করে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-সহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা দিয়ে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। পুলিশের দাবি, সেই শর্ত ভেঙেই যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। বুধবার সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাশে বিরোধীরা, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র
রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও জাতীয় পতাকা ওড়ানোকে অপরাধ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা আদিত্য ঠাকরেও CJP নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলতে থাকা প্রতিবাদের আবহেই সোমবার কেন্দ্র যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের স্বীকৃতি থেকে সরিয়ে দেয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রতিবাদের অধিকার এবং নির্দিষ্ট স্থানে বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
CJP নেতাদের হেফাজতে পাঠানোর ঘটনা এখন বিরোধীদের কেন্দ্রবিরোধী আক্রমণের অন্যতম হাতিয়ার। জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অধিকার, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন এবং প্রতিবাদের স্বাধীনতা এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে। তবে পুলিশি অভিযোগ এবং আদালতের নির্দেশের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই গোটা ঘটনার বিচার করা জরুরি।
