স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যাচের বয়স সেইসময় ৮৩ মিনিট। স্কোরবোর্ডে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে রোমা। ঘরের মাঠে জয় তখন কার্যত হাতের মুঠোয় দেখছিল ইতালির ক্লাবটি। অন্য দিকে, দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালকে কখনও আগেভাগে হিসেবের বাইরে রাখা যায় না। শেষ সাত মিনিটে তিনটি গোল করে সেই কথাই আবার প্রমাণ করল স্পেনের অন্যতম সফল ক্লাব। রোমার মাঠে ৪-৩ গোলে জিতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের কাহিনি লিখল হোসে মোরিনহোর দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল রোমা। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পরিকল্পনায় সফলও হয়েছিল তারা। ২০ মিনিটে মার্টেন ডে রুনের গোলে এগিয়ে যায় রোমা। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর জোরালো শট রিয়ালের রক্ষণে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার পক্ষে সেই বল আটকানো সম্ভব হয়নি। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরায় রিয়াল।
২৫ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের গোলে ম্যাচে ফিরে আসে মাদ্রিদের ক্লাবটি। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচে গোল করে দলকে স্বস্তি দেন ফরাসি তারকা।
বিরতির পরে যদিও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় রোমা। ৫১ মিনিটে ডোনিয়েল মালেনের গোলে ফের এগিয়ে যায় তারা। রিয়ালের রক্ষণে ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ডাচ স্ট্রাইকার। এর ছয় মিনিট পরেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান মালেন। ৫৭ মিনিটে তাঁর গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১। তখন মনে হচ্ছিল, রোমার জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। রিয়ালের আক্রমণেও তেমন ধার দেখা যাচ্ছিল না। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছিল তারা।
ম্যাচের শেষ ভাগে বদলে যায় পুরো ছবিটা। মোরিনহোর পরিবর্তন এবং রিয়ালের মরিয়া আক্রমণ নতুন করে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে দলকে। ৮৩ মিনিটে ব্যবধান কমান পরিবর্ত খেলোয়াড় কার্লোস এস্পি। ফেদেরিকো ভালভার্দের হেড রোমার গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান এস্পি। স্কোরলাইন তখন ৩-২। ম্যাচে ফেরার আশা দেখতে শুরু করছে রিয়াল।
ম্যাচে শেষমেশ ফিরলও তারা। ৮৫ মিনিটে আরদা গুলেরের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এন্দ্রিক। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ৩-১ থেকে ৩-৩ করে ফেলে রিয়াল। রোমার রক্ষণ তখন কার্যত দিশেহারা। যে ম্যাচে কিছুক্ষণ আগেও তাদের জয় নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছিল, সেই ম্যাচেই পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। শেষ পেরেকটি পোঁতা হয় ৯০ মিনিটে।
ফের গুলেরের কর্নার, আর সেখান থেকেই গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন আন্তোনিও রুডিগার। প্রাক্তন রোমা ডিফেন্ডারের গোলে সম্পূর্ণ হয় প্রত্যাবর্তন। শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় রিয়াল। আশ্চর্যের বিষয়, শেষ তিনটি গোলই এসেছে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে।





