নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে একের পর এক রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীর আটক হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। রবিবারের মধ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন অথবা পদযাত্রার পথে হাঁটার কথা ভাবতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দেশের রাজধানীর পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলেও কটাক্ষ করেছেন ওয়াংচুক। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের।
https://x.com/Wangchuk66/status/2108874426301460544?s=20
শনিবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-কে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ এবং ভোটারদের নাম বাদ পড়ার বিতর্ককে সামনে রেখেই এই আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরেই দলের কয়েক জন নেতা ও তাঁদের সঙ্গীদের আটক করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা। বিমান থেকে নামার আগেই তাঁদের আটক করার ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ওয়াংচুক নিজে অবশ্য শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেননি। লাদাখে ফিরে শীতের আগে জলনিরাপত্তা ও হিমবাহ সংক্রান্ত কাজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। কৃত্রিম হিমবাহ তৈরি, হিমবাহ-হ্রদ থেকে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলার মতো কাজে তাঁর সংস্থা যুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পরিবেশকর্মী। তবে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে পিছপা হননি তিনি। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ থাকার আবেদনও করেছিলেন।
কিন্তু শনিবারের ধরপাকড়ের পর তাঁর সুর আরও কঠোর হয়েছে। ওয়াংচুকের বক্তব্য, বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের পরিসর নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আটক নেতাদের দ্রুত মুক্তি না দেওয়া হলে তিনি অনশন বা পদযাত্রার কথা বিবেচনা করবেন। অর্থাৎ, দিল্লির আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও প্রতিবাদকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খোলা রাখছেন তিনি।
এই বিক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই দিল্লিতে জমায়েতের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন ও শাসকপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রশ্নটি এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াংচুকের হুঁশিয়ারিতে তাই শুধু আটক নেতাদের মুক্তির দাবি নয়, প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগ থাকা জরুরি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য শোনার পরিসর বন্ধ হয়ে গেলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে উদ্বেগজনক। শনিবারের ঘটনাপ্রবাহে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের আটক, বিক্ষোভের অনুমতি এবং জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ওয়াংচুকের বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। রবিবারের মধ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হয় কি না, তার উপরই নির্ভর করছে তিনি অনশন বা পদযাত্রার মতো কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন কি না।
