নিউজ ডেস্ক: দাম্পত্য জীবনে চরম অশান্তি। স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটানোর অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে ২৫ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা শেষ করতে চান এক মহিলা। কিন্তু স্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে প্রবল আপত্তি স্বামীর। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে গর্ভপাতের আবেদন ঘিরে স্বামী-স্ত্রী দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল বিচারপতিদের বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বা দাম্পত্য কলহের কারণে একতরফাভাবে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া যায় না।
সোমবার বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালতের সামনে ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে মহিলা জানান, তিনি আর এই সন্তান ধারণ করতে চান না। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কও রাখতে চান না। বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে স্বামীর দাবি, সন্তান জন্মানোর পর তার সমস্ত দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তিনি। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের দেখভালের আশ্বাসও দিয়েছেন।
শুনানিতে উঠে আসে আরও বিস্ফোরক তথ্য। স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে অভিযোগ তোলার বিষয়টি সামনে আসে। এমনকী পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ মহিলার আইনজীবীর। এই পরিস্থিতিতে আদালত স্বামীকে তাঁর সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয়। শুধু তাই নয়, পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলে বেঞ্চ।
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ কিংবা তিক্ত বাক্যবিনিময় হলেই গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া যায় না। আদালতের মতে, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন অথবা গর্ভস্থ ভ্রূণের শারীরিক জটিলতার মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে আইনি পরিস্থিতি আলাদা। কিন্তু এই মামলায় ভ্রূণ সুস্থ এবং চিকিৎসাগতভাবে গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নও রয়েছে।
আদালত আরও জানায়, অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হবে। তবে স্বামীর দায়িত্ব নেওয়ার মৌখিক আশ্বাসই যথেষ্ট নয়, সেই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, এর আগে বম্বে হাইকোর্টও মহিলার গর্ভপাতের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। এবার স্বামীকে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী ৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন স্বামী কী অবস্থান নেন এবং আদালত গর্ভপাতের আর্জি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত জানায়, এখন সেদিকেই নজর।




