নিউজ ডেস্ক: টানা কিছুদিন স্বস্তি মিলেছিল। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হল না। নতুন করে চিন্তা ধরাচ্ছে আবহাওয়া। ক্রমাগতই আবহাওয়ার বদল ঘটতে দেখা যাচ্ছে বঙ্গজুড়ে। দুর্গাপূজোর আগে পুরোপুরি স্বস্তি দেবে না বৃষ্টি। একটানা না হলেও বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে উত্তর থেকে দক্ষিণ সব জায়গাতেই। জোড়া ঘূর্ণাবর্ত এবং তিনটি শক্তিশালী অক্ষরেখার মিলিত প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টি চলবে চলতি সপ্তাহে। যদিও দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলাতেই ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ থাকতে পারে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ থাকতে পারে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তন হচ্ছে তাপমাত্রার। হঠাৎ করে বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রার পারদও অনেকটাই নিম্নমুখী হয়েছে শহরতলির এলাকা ও বেশ কিছু জেলায়।
একটানা ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। ঝড়-বৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। শুধু ঝড়-বৃষ্টি নয়, দমকা হাওয়াও বইবে বিভিন্ন জায়গায়। পুজোর কেনাকাটা ও মণ্ডপ তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বহু এলাকায়। ফলে আচমকা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাসে আয়োজকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরির কাজ নিয়ে বাড়ছে চিন্তা।
একটানা বৃষ্টি হবে আগামী দু-তিন দিন। তবে বিক্ষিপ্তভাবেই বৃষ্টির সম্ভাবনা। ভারী বৃষ্টি হবে না এই মুহূর্তে। বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণের বেশ কিছু জেলায় বেশি রয়েছে। সেই তালিকায় থাকছে পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলা। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মাঝে কয়েকটা দিনের আবহাওয়া অনেকটাই উন্নতি হয়েছিল উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। কিন্তু তাতেই বিশেষ পরিবর্তন ঘটল না। নতুন করে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে উত্তরের জেলাগুলিতে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে।
একটানা বৃষ্টির ফলে আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন হতে দেখা যাবে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে পুজোর আগে দক্ষিণবঙ্গে ফের বাড়তে পারে বৃষ্টি। আর তাতেই দুশ্চিন্তায় ভুগছে বঙ্গবাসী। কারণ সারা বছর উৎসবে এই কয়েকটা দিনের জন্য সকলেই অপেক্ষা করে থাকেন। তাই পুজোর মুখে বৃষ্টি যথেষ্টই উদ্বেগ তৈরি করছে।
