উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর-৬৬ এলাকার মামুরায় একটি আবাসিক ভবনে বুধবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) চার্জ দেওয়ার সময় সেখান থেকে আগুন লেগে যায়। পরে সেই আগুন পার্কিংয়ে থাকা অন্যান্য পেট্রোলচালিত গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘন ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ভবন। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। দমকলের তৎপরতায় প্রায় ৫০টি পরিবারকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসিক ভবনটির নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগে। সেখান থেকেই দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের সাতটি ইঞ্জিন, হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম এবং উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘক্ষণ অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং আটকে পড়া বাসিন্দাদের একে একে উদ্ধার করা হয়।
গৌতম বুদ্ধ নগরের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রাজীব নারায়ণ জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ইভি চার্জিংয়ের সময় একটি স্পার্ক থেকে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন পার্কিংয়ে রাখা পেট্রোলচালিত গাড়িগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, নিচতলার পার্কিং থেকে বের হওয়া ঘন ধোঁয়া দ্রুত ভবনের উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই বাসিন্দা। তাঁদের দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার জেরে ফেজ-৩ থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে বহুতলের মালিক এবং লিজহোল্ডারকে আটক করা হয়েছে। ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা বিধি এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।