অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন বিতর্কিত মন্তব্য করে পদ্ম শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার স্পিকার সতীশ মহানা। রামের ঘরে অনুদান চুরির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “যাঁরা মনে করছেন রামমন্দিরের অনুদান চুরি হয়েছে, আসলে সেটা তাঁদের ভক্তির অভাব। ভক্তিভরে দান করেননি বলেই হয়তো তাঁদের এমন মনে হচ্ছে।”
সতীশ মহানা আরও বলেন, “রাম মন্দিরে দানের অর্থ মন্দির নির্মাণের কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে। আজ যে রামমন্দির সবাই দেখছেন, সেটি ভক্তদের সেই অনুদানের অর্থেই গড়ে উঠেছে।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ভগবানের উদ্দেশে একবার দান করে দেওয়ার পর কেউ কি সেই অর্থ ফেরত চান? মন্দিরে সামান্য কিছু অর্পণ করাটাই ভক্ত হিসেবে আমার ক্ষুদ্র অবদান।”
স্পিকারের এই মন্তব্যের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, এই বক্তব্যের মাধ্যমে অনুদান দেওয়া ভক্তদের উদ্বেগকে খাটো করা হয়েছে। যদিও সতীশ মহানা দাবি করেন, যদি কেউ সত্যিই মনে করেন যে তাঁর দেওয়া অনুদান চুরি হয়েছে, তাহলে সরকার এবং রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। তবে তাঁর কথায়, “রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি সংগঠনকে চোরের সংগঠন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।”
এদিকে, অনুদান চুরির মামলার তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে। ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্ত—করুণেশ পান্ডে, লবকুশ তিওয়ারি এবং অনুকল্প মিশ্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তদের দাবি, মন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির সূচনা করেছিলেন অবিনাশ শুক্লা। প্রথমদিকে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকা করে সরানো হলেও পরে পরিকল্পিতভাবে একটি চক্র গড়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর প্রতিদিন প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করা হতে থাকে।
তদন্তকারীদের দাবি, শুরুতে এই চক্রে মাত্র দু'জন যুক্ত থাকলেও পরে আরও কয়েকজনকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের দাবি অনুযায়ী, অনুদানের অর্থ গণনার কাজ শেষ হওয়ার পর কর্মীদের তল্লাশি করা হত না। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাকা সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। অনুদানের অর্থ কতটা আত্মসাৎ হয়েছে, কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং চুরি হওয়া অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা জানতে তদন্তকারীরা নথি, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।