টানা বর্ষণের ফলে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মী। পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি ক্রমাগতই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আপাতত কিছু সময়ের জন্য বৈষ্ণব দেবী যাত্রা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত যাত্রা পুনরায় শুরু হবে না বলে জানা গিয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে অমরনাথ যাত্রাও।
পুঞ্চ জেলার সাংগলানি এলাকায় বাড়ি ধসে মৃত্যু হয়েছে ২২ বছরের শাহজাইব আহমদের। মারহোটে এলাকায় প্রবল স্রোতে ভেসে যায় এক নাবালিকা। হাভেলি তহসিলে একাধিক বাড়ি ধসে আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন এক ব্যক্তি। ধুন্দক লাথুং সেতুর কাছে একটি খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার দেহ। পাশাপাশি রাজৌরি জেলাতেও টানা বৃষ্টিতে নদীর জল উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নজর দিতে শুরু করেছে প্রশাসন। নদীর জলস্তর বিপদ সীমার উপরে পৌঁছে গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে অযথা বাড়ির বাইরে বেরোতে বারণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দিল্লির কর্মসূচি মাঝপথে ছেড়ে জম্মুতে ফিরে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহাও উদ্ধার ও ত্রাণকাজে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন সমস্ত দিক থেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই ২৩ শে জুলাই পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। একাধিক জায়গাতে প্রবল বৃষ্টির ফলে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ এবং কৈলাস মানস সরোবর যাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে এর ফলে। রাজ্যের একাধিক জেলায় লাল, কমলা ও হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে আইএমডি-র পক্ষ থেকে।