দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: মায়ের নামে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি। কিন্তু সেই বৃদ্ধাশ্রমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি জমি, এমনই অভিযোগ উঠেছে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে। এবার সেই অভিযোগ জেরে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। চাঁদমনি বৃদ্ধাশ্রমকে সরকারি জমির কথিত অনুমোদিত দখল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করে ব্লক ল্যান্ড এন্ড ল্যান্ড রিফর্মস অফিসারের কাছে দখল হস্তান্তর করতে হবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এর মাতলা নদীর চরে তৈরি এই বৃদ্ধাশ্রমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিজেপির তরফে আগের থেকেই সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের তরফে আগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এবার নথিপত্র বিডিও- এর যাচাই করার রিপোর্ট এবং পাট্টা সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার পর আশ্রম কর্তৃপক্ষকে জমি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সূত্রে খবর, নির্দেশে বলা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমি খালি না করলে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে ওই জমিতে সরকারি অর্থে কোনও ভবন, সীমানা প্রাচীর বা অন্য কোনও নির্মাণ তৈরি হয়ে থাকলে, তা যাচাই করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য ক্যানিং- ১ BDO কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে, প্রশাসনিক নির্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দিক রাখা হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রম এর মূল ভবনে বর্তমানে থাকা প্রবীণ আবাসিকদের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আপাতত বৃদ্ধাশ্রমের মূল ভবন থেকে ওই প্রবীনদের উচ্ছেদ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। অর্থাৎ বৃদ্ধদের নিয়ে তড়িঘড়ি কোন পদক্ষেপ নিতে চাইছে না প্রশাসন।
এদিকে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ক্যানিং থানার আইসি কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। BL&LRO এবং BDO কে তাদের সরাসরি দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই নির্দেশ West Bengal Public Land (Eviction of Unauthorized Occupants) Act, 1962-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে জারি করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে, অভিযোগের রাজনৈতিক দিকও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি জমি দখলের অভিযোগের নাম জড়িয়েছে শাসকদলের বিধায়কের। এখন প্রশাসনের ১৫ দিনের নির্দেশের পর চাঁদমনি বৃদ্ধাশ্রমের ভবিষ্যৎ কি হয়, সেদিকেই নজর।