মালদা, নিউজ ডেস্ক: মালদহ মেডিক্যালে লাগাতার শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে চার সদস্যের বিশেষ দল, চিকিৎসায় গাফিলতি নাকি অতিরিক্ত চাপ। এতেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ফের উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সদ্যোজাতদের মৃত্যু নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি আগস্ট মাসেই এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৮৩-টি শিশু।
গত জুলাই মাসেও এই সংখ্যাটা ছিল ৮৭। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং মৃত্যুর নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করতে শনিবারই হাসপাতালে পৌঁছে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনায় নামছে স্বাস্থ্য ভবনের বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল এই বছরই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষার এই সময়ে শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ৯৬ এবং ২০২৫-এর একই সময়ে ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চিকিৎসক প্রলয় আচার্যের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের তদন্তকারী দলে রয়েছেন এসএসকেএম এবং মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অভিজ্ঞ অধ্যাপক-চিকিৎসকেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যাটির মূল উৎস অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও শেষ মুহূর্তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেফার করার প্রবণতা। মালদহ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ এবং সীমানা লাগোয়া বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকেও প্রতিদিন বহু রোগীকে এখানে পাঠানো হয়। এক-একটি মাসেই শুধুমাত্র পেডিয়াট্রিক বিভাগে ভর্তি হতে দেখা যায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিশুকে।
মালদহ মেডিক্যালের এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বর জানান, ‘এখানে আসা শিশুদের একটি বড় অংশই বাইরে থেকে রেফার হয়ে আসে। একদম শেষ মুহূর্তে সংকটজনক অবস্থায় শিশুদের এখানে নিয়ে আসার কারণে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাঁচানো সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কর্মী সংখ্যার অপ্রতুলতা ও বিপুল রোগীর চাপ তো রয়েছেই।’
বিশেষজ্ঞ দল মূলত শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা কোথায় হয়েছিল, রেফার করার সময়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কী কী প্রোটোকল মানা হয়েছিল এবং হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো কতটা উপযুক্ত, এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দেবে।