সিজেপি-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিলো রাজধানী দিল্লি। এই ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল গোটা দেশে। মঙ্গলবার আহতদের দেখতে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। সোমবারের ঘটনার পর পরে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই হাসপাতাল সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে নিজের বাসভবনে সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন নাড্ডা। পরে এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিতে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "বৈঠক ভাল হয়েছে, সব সময়ই ভাল হয়।"
সিজেপি-র পক্ষ থেকে বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা NEET পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি। মূলত এই তিনটে দাবির উপরেই তাদের এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। বৈঠকের পরেই নিজের 'এক্স'-হ্যান্ডেলে এসে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন,
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের বিষয়টি নাড্ডা "উপযুক্ত স্তরে" আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, জেপি নাড্ডা 'এক্স'-এর মাধ্যমে জানান, আলোচনার প্রস্তাব বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকেই এসেছিল এবং বৈঠক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, সোমবার 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে অংশ নিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে অগ্রসর হলে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও প্রবীণ নাগরিক-সহ বহু মানুষ অংশ নেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
এ বিষয়ে দিল্লি-পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মী ও আধিকারিক আহত হয়েছেন। একইভাবে আহত হয়েছেন ৬০ জন বিক্ষোভকারী। আন্দোলনকারীরা পাথর ছুড়েছেন, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছেন এবং সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
সিজেপির অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বহু মানুষ। সোমবারের পর মঙ্গলবারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিজেপির বৈঠক যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।