পাঞ্জাব কংগ্রেসে সাংগঠনিক রদবদলের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে জল্পনার বাড়ছে। ইতিমধ্যে সামনে এসেছে সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্নির ‘বিদ্রোহী’ মন্তব্য। তবে সেই জল্পনার আগুনে ঘি না ঢেলে আপাতত দলীয় কর্মীদের ঐক্যের বার্তা দিল কংগ্রেস। পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং জানিয়েছেন, অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটিতে পাঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ভূপেশ বাঘেল শনিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নির সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে চন্নির সঙ্গে আলোচনা করবেন বাঘেল, তারপর অন্যান্য নেতাদের নিয়ে যৌথ বৈঠকে বসবেন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজা ওয়ারিং বলেন, “প্রথমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করবেন, তারপর আমরা সবাই একসঙ্গে বসব। আগামী এক-দু'দিনের মধ্যেই সবাইকে একই মঞ্চে দেখা যাবে। এমন কোনও সিনিয়র নেতার নাম বলুন, যিনি সভাপতি হিসেবে আমাকে মানতে অস্বীকার করেছেন।” অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ কুমারী সেলজাও দলের অন্দরের বিভেদের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কোনও সমস্যা নেই। সবাই বৈঠকে বসবেন।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দলীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনও মতবিরোধের কথা মানতে নারাজ।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার চরণজিৎ সিং চন্নি, সুখজিন্দর সিং রনধাওয়া, পরগত সিং, ভারত ভূষণ আশু, গুরকিরত সিং কোটলি এবং বারিন্দরমিত সিং পাহরার মতো শীর্ষ কংগ্রেস নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর সুখজিন্দর সিং রনধাওয়া বলেন, “মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধ রয়েছে— এটাই আজকের বৈঠকের বার্তা।” পরগত সিংও জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং আলোচনা করেই সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
এদিন কংগ্রেস বিধায়ক রানা গুরজিত সিংও বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং গণতন্ত্রবিরোধী যে কোনও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সরব হবে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু হলে আমরা তার প্রতিবাদ করব। এই বৈঠক আমাদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়েছে।” রানা আরও জানান, “সব কিছু ঠিক আছে। কেউই হাইকমান্ডের বাইরে নন। সময় এলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ভূপেশ বাঘেল জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার পর তিনি চরণজিৎ সিং চন্নি এবং সুখজিন্দর সিং রনধাওয়ার সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংয়ের পুনর্নিয়োগকে তিনি পূর্ণ সমর্থন করছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাংগঠনিক রদবদলের পর তৈরি হওয়া মতপার্থক্য দ্রুত মিটিয়ে পাঞ্জাবে কংগ্রেসকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।