ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও আঁটোসাঁটো করতে তিন দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এলেন বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) প্রবীণ কুমার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় বাড়তি তৎপরতা দেখিয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ১২৪ একর জমিও হস্তান্তর করেছে। এই আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ধারাবাহিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর বিএসএফ প্রধানের এই সুন্দরবন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভৌগোলিক কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় সীমানার মধ্যে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীপথ ও জলাভূমি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। স্থলভাগের মতো এখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঝুঁকি থেকেই যায়। এই বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ডিজি প্রবীণ কুমার নৌপথে বসিরহাটের রায়মঙ্গল, গোমতী ও কালিন্দী সহ বিভিন্ন সীমান্ত নদী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের শীর্ষ আধিকারিকদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন ডিজি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য--১)সুন্দরবনের নদীপথে নজরদারি আরও জোরদার করা এবং অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন।২)রাতে নজরদারির জন্য উন্নত প্রযুক্তির টহল ব্যবস্থা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লাডলাইট বসানো। ৩)জলসীমান্তে আধুনিক ও অস্ত্রসজ্জিত স্পিডবোটের সংখ্যা বৃদ্ধি।
নদীপথের পাশাপাশি হেমনগর, হাসনাবাদ, ঘোজাডাঙ্গা ও কৈজুড়ি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএসএফ প্রধান। তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে তা দ্রুত বাহিনীকে জানানোর আর্জি জানানোর পাশাপাশি গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে বাহিনীর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, বিএসএফের কোনও কর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।