বৃহস্পতিবার ইতিবাচক পরিবেশে লেনদেন শুরু করল দেশের শেয়ারবাজার। বৈশ্বিক বাজারের অনুকূল পরিস্থিতি, প্রথম ত্রৈমাসিকের কর্পোরেট ফলাফল নিয়ে আশাবাদ এবং GIFT Nifty-র ইতিবাচক সংকেতের জেরে বাজারের শুরুতেই ক্রেতাদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তার প্রভাবকে আপাতত ছাপিয়ে গিয়েছে ইতিবাচক বিনিয়োগ মনোভাব।
দিনের শুরুতেই বিএসই সেনসেক্স প্রায় ২৫০ পয়েন্ট ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শুরু করে। একই সঙ্গে নিফটি ৫০ সূচক ২৪,১০০-এর উপরে উঠে যায়। ব্যাঙ্কিং খাতের বড় বড় শেয়ারে কেনাকাটার জেরে ব্যাঙ্ক নিফটিও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। ফলে বাজারে সামগ্রিকভাবে আশাবাদী পরিবেশ তৈরি হয়।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্যাঙ্কের ভালো আর্থিক ফলাফলের কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। তার ইতিবাচক প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়েছে।
এদিকে দেশের প্রথম ত্রৈমাসিকের আয় ঘোষণার মরসুমও বাজারকে সমর্থন জোগাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে একাধিক বড় সংস্থার আর্থিক ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকায় বিনিয়োগকারীরা বেছে বেছে শেয়ার কিনছেন। বাজার খোলার আগেই GIFT Nifty-র ইতিবাচক ইঙ্গিতও এই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
সেক্টরভিত্তিক লেনদেনে ব্যাঙ্কিং, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), অটোমোবাইল এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে ভালো কেনাকাটা দেখা গেছে। অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার কারণে তেল ও গ্যাস এবং ধাতু খাতের শেয়ারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজকের লেনদেনে অনন্ত রাজ, শোভা, পিএনবি হাউজিং ফিন্যান্স, বড় ব্যাঙ্কিং সংস্থা এবং শীর্ষস্থানীয় আইটি কোম্পানির শেয়ারগুলির দিকে বিশেষ নজর রয়েছে। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবস্থান, সম্ভাব্য ভালো ফলাফল এবং ইতিবাচক বিশ্লেষক মতামতের কারণে এই সংস্থাগুলি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নিফটি এখনও সংহতকরণের পর্যায়ে থাকলেও বাজারে স্থিতিশীলতা রয়েছে। ২৪,০০০–২৩,৯৫০ স্তরকে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট এবং ২৪,২৫০–২৪,৩৫০ স্তরকে রেজিস্ট্যান্স হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিফটি যদি ২৪,২৫০-এর উপরে স্থায়ীভাবে উঠে যেতে পারে, তাহলে বাজারে আরও ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখা যেতে পারে। তবে ২৪,০০০-এর নিচে নেমে গেলে নতুন করে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের লেনদেনে কর্পোরেট ফলাফল, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিদেশি ও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII ও DII) কার্যকলাপ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধির উপর নজর রাখা জরুরি। তবে দিনের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা বাজারে আশার সঞ্চার করেছে।