জম্মু-কাশ্মীরে চলছে টানা বৃষ্টি, এর জেরে ইতিমধ্যে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। রাজ্যের একাধিক জেলায় হড়পা বান, বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবরও সামনে এসেছে। আর এই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হল অমরনাথ ও বৈষ্ণোদেবী তীর্থযাত্রা। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার অমরনাথগামী কোনও তীর্থযাত্রীকে পহেলগাম বা বালতাল—দুই পথের কোনওটিতেই এগোতে দেওয়া হয়নি। আপাতত সকলকে সংশ্লিষ্ট বেস ক্যাম্পে থাকতে বলা হয়েছে। কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গ জানিয়েছেন, আবহাওয়া দপ্তর ওই অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৬ হাজারেরও বেশি ভক্ত অমরনাথ দর্শন করেছেন।
অন্যদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে জম্মুর কাটরা থেকে বৈষ্ণোদেবী যাত্রাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, টানা বৃষ্টির জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজৌরি জেলায় হড়পা বানের কারণে নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। দারহালি, খান্দালি, সুকতোহ এবং জামোলা নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। দারহালি নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে বাসস্ট্যান্ডের পার্কিং এলাকায়। প্রবল স্রোতে একাধিক যানবাহন ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ভূমিধস ও বাড়ি ধসের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পুঞ্চ জেলায় বাড়ি ধসে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজৌরিতে ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। এছাড়া দুই জেলায় মিলিয়ে পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের খোঁজে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।