হাবিবুর রহমান, ঢাকা: শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠের ধারে কাশফুলের দোলা। কোথাও প্রতিমার চোখে শেষ তুলির টান, কোথাও চলছে অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ। অন্যদিকে, পুজোর নতুন পোশাক কিনতে বিপণিবিতানগুলিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। এ বছর বাংলাদেশে ৩৩,৮৫১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেবীর আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন নৌকায়।
এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। শারদীয় দুর্গাপুজো ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সভায় এ কথা জানান তিনি।
আলী হোসেন ফকির বলেন, “দুর্গাপুজো ঘিরে পুলিশ প্রাক্-পুজো, পুজো চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পুজো-পরবর্তী—এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের পুজোকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে কোনও মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপুজো নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপুজো উপলক্ষে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দফতরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২,৭২৭টি পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এসব পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
এদিকে, বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর শিববাড়ি দুর্গাপুজো উপলক্ষে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রায় ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের প্রাচীন কারুকার্য ও স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। সিলেট অঞ্চলের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মন্দির হিসেবে পরিচিত কাদিপুর শিববাড়িতেও এ বছর দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।
২০২২ সাল থেকে এই মন্দিরে ২৩ ফুট উঁচু সহস্রভুজা, অর্থাৎ এক হাজার হাতবিশিষ্ট দুর্গাপ্রতিমার পুজো হয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই শিববাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোকে ঘিরে বাংলাদেশজুড়ে প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। প্রতিমা নির্মাণ থেকে মণ্ডপসজ্জা, কেনাকাটা থেকে নিরাপত্তার আয়োজন সব ক্ষেত্রেই উৎসবের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুজো উদযাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই এখন প্রশাসন ও আয়োজকদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
