ভারতীয় রেলে সফরকে আরও স্বচ্ছন্দ ও সুশৃঙ্খল করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬ থেকে চালু হচ্ছে অনলাইন লাগেজ বুকিং ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কনফার্ম রিজার্ভেশন টিকিট থাকা যাত্রীরা টিকিট কাটার সময়েই IRCTC পোর্টালের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত লাগেজ বুক করতে পারবেন। ফলে স্টেশনের কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি কমবে। উল্লেখ্য, অগ্রিম বুকিং ছাড়া বাড়তি লাগেজ নিয়ে সফর করলে মাঝপথে বা গন্তব্যে TTE-র হাতে ধরা পড়লে জরিমানা দিতে হয়।
নতুন নিয়মে ভ্রমণের প্রতি শ্রেণীর ভিত্তিতে বিনামূল্যে লাগেজ বহন ও সর্বোচ্চ সীমার আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে - ১) এসি ফার্স্ট ক্লাসে বিনামূল্যে ৭০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি লাগেজ নেওয়া যাবে। ২) ফার্স্ট ক্লাস ও এসি টু-টিয়ারে বিনামূল্যে ৫০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ১০০ কেজি লাগেজ বহন করা যাবে। ৩) স্লিপার ক্লাস বিনামূল্যে ৪০ কেজি সর্বোচ্চ ৮০ কেজি লাগেজ। ৪) সেকেন্ড ক্লাস - এখানে বিনামূল্যে ৩৫ কেজি ও সর্বোচ্চ ৭০ কেজি লাগেজ বহন করতে পারবেন যাত্রীরা।৫) অন্যদিকে,এসি থ্রি-টিয়ার, এসি ৩-ইকোনমি ও এসি চেয়ার কারে বিনামূল্যে ও সর্বোচ্চ সীমা উভয় ক্ষেত্রেই ৪০ কেজি মালপত্র নিতে পারবেন যাত্রীরা।
অগাস্ট, ২০২৬ থেকে পশ্চিম মধ্য রেলওয়ে (WCR) কাউন্টারে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে টোকেন প্রথা চালু করতে চলেছে। ভিড় ও দীর্ঘ অনুচ্ছেদ এড়াতে এসি তৎকাল-র টোকেন দেওয়া হবে সকাল ৮:৩০ থেকে ৯:০০টা এবং নন-এসি-র ক্ষেত্রে ৯:০০ থেকে ৯:৩০টা পর্যন্ত। প্রাথমিক পর্যায়ে কাউন্টার প্রতি এসি-র জন্য ১০টি এবং নন-এসি-র জন্য ১৫টি টোকেন দেওয়া হবে, যা চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন সাপেক্ষ।
পরিবারের সদস্যদের জন্য টিকিট বুক করতে 'ক্যাটাগরি A' টোকেন নিতে হবে, যার জন্য নিজের ও সফরকারীর আসল পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। একবার পাওয়া টোকেন হস্তান্তরযোগ্য নয়। রেলের আশা, এই দুই পদক্ষেপে সার্বিক পরিষেবা আরও উন্নত ও স্বচ্ছ হবে।