অবস্থান তুলে নিলো CJP। সরকারের উপর আস্থা রেখে অবস্থান তুলে নিলো CJP। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নয়, আগামী দিনেও কোনো মামলা হবে না, জানালেন জেপি নাড্ডা। ছাত্রদের তিনটি প্রধান শর্তই মেনে নিল কেন্দ্র সরকার।
দিল্লির ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের অবসান হল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তথা সিজেপি। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চলছিল এই আন্দোলন। আন্দোলনের জেরে কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লির জনজীবন। আন্দোলনের প্রভাব পড়েছিল বিভিন্ন রাজ্যে। পথে নেমেছিল পড়ুয়ারা। আন্দোলনে শুরু থেকেই সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন ছিল। পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রী এবং একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলও এই আন্দোলনে শামিল হয়।
সিজেপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা। শনিবার সিজেপির সঙ্গে বৈঠকের পূর্বে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র্যপ্রধান ইস্তফা দেন। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই আন্দোলনে।
এ বিষয়ে সিজেপি সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে দিল্লি-সহ বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত মামলার নথিও সিজেপির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এরই পাশাপাশি সিজেপির প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা জানান, নিট কাণ্ডের জেরে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবিও সরকার নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। এছাড়াও এইদিন দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফার একটি সনদপত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে সিজেপি।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, সিজেপির দেওয়া প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখে চার সপ্তাহের মধ্যে ফের বৈঠকে বসবে কেন্দ্রীয় সরকার। আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও আগামী দিনে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে সরকারের সঙ্গে এমনই ইঙ্গিত মিলছে। অবশেষে ছাত্র আন্দোলনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সরকারের কাছে এমনটাই মনে করছে আন্দোলনকারীরা।