JAZZBAAT 24 বাংলা ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনের অন্দরে ‘তোলাবাজি’ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপির। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একাধিক বার কড়া বার্তা দিলেও অভিযোগের পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। এ বার তাই কলকাতায় বসে নির্দেশ দেওয়ার বদলে সরাসরি জেলায় জেলায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিল দলের কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এই জেলা সফর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতা নয়, দলের নাম ব্যবহার করে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট-ঘনিষ্ঠতা, বেআইনি ভাবে টাকা আদায় কিংবা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ডেকে সরাসরি ‘ক্লাস’ নেওয়া হবে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে সতর্ক করা হবে। তার পরেও অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ, এমনকি দল থেকে বহিষ্কারের পথেও হাঁটতে পারে নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক জন নেতাকে শো-কজ করা হয়েছে। দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগও পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তোলাবাজির অভিযোগে বহু কর্মী-নেতাকে শো-কজ এবং কয়েক জনকে সাসপেন্ড করার খবর সামনে এসেছে। ফলে এ বার শুধু মৌখিক সতর্কবার্তা নয়, অভিযোগ যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দিকেই জোর দিতে চাইছে বিজেপি।
বিজেপির অন্দরের একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গোষ্ঠীকোন্দলও। দলীয় সূত্রের দাবি, বহু জেলায় জেলা সভাপতির বিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয়। ফলে জেলা সভাপতি কোনও নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইলেও রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে তা সব সময় সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপকেই সমাধানের পথ হিসেবে দেখছে নেতৃত্ব।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে বালি-পাথরের খাদান, নির্মাণকাজ এবং স্থানীয় স্তরে জরিমানা আদায়ের মতো বিষয়ও। কোথাও কোথাও এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দলের লোকজনের মধ্যেই সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ‘তোলাবাজি’ শুধু দলের ভাবমূর্তির সমস্যা নয়, স্থানীয় সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সম্প্রতি মালদহেও বিজেপির এক বিধায়ক তাঁর নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ প্রকাশ্যে তুলেছিলেন। জেলা নেতৃত্বের একাংশ আবার দলেরই কিছু লোকের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেছে।
বিজেপি নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পুরসভা নির্বাচন সামনে থাকায়। দলের আশঙ্কা, এখনই সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করলে স্থানীয় স্তরে বেআইনি কাজের অভিযোগ বিরোধীদের হাতে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই জেলা সফরে গিয়ে নেতৃত্ব এক দিকে সংগঠনের দুর্বলতা চিহ্নিত করবে, অন্য দিকে বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দেবে।
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই স্পষ্ট করেছেন, বিজেপির নাম ব্যবহার করে বেআইনি কাজ করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও সম্প্রতি দলীয় নেতা-কর্মীদের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট-রাজ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আগামী মাসের জেলা সফরকে নিছক সাংগঠনিক কর্মসূচি না দেখে দলের ভাবমূর্তি ফেরানোর ‘শুদ্ধি অভিযান’ হিসাবেই দেখছে বিজেপির একাংশ।