বীরভূম, নিউজ ডেস্ক: গভীর রাতে বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ। শুধু বাড়ি নয় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সংলগ্ন বিজেপি পার্টি অফিসেও। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা যায় সাদা থান, মালা, ধূপকাঠি এবং একটি হুমকির চিঠি। উদ্ধার হয়েছে একটি তাজা বোমাও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের নানুরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় একজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, রবিবার প্রায় রাত দুটো নাগাদ নানুরের তিলুটি গ্রামের বাসিন্দা তথা নানুর-১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি জেনারেল সেক্রেটারি রসময় দাসের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। একই সময়ে তাঁর বাড়ির পাশে বিজেপি পার্টি অফিসেও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, বাড়ির সামনে সাদা থান, মালা, ধূপকাঠি এবং হুমকির চিঠি রেখে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকাতে। ঘটনার পিছনে তৃণমূলের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্ত সাপেক্ষ।
বিজেপি নেতা রসময় দাসের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে সাবমার্সিবলের বিদ্যুৎ বিল মেটানো হত। ওই টাকা তৃণমূলের কয়েকজন নেতার হাতে ছিল বলে দাবি তাঁর। তাঁদের বিদ্যুতের বিল মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে বিজেপি সমর্থক কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের অশান্তি হয়। এরপরই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার।
বোমাবাজির পর ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি বোমা বিপত্তি আনে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতে এক ব্যাক্তি গাড়ি নিয়ে পুকুরে মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘোরানোর সময় একটি বোমা চাকায় লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে গাড়ির টায়ার ফেটে যায় এবং ওই ব্যক্তি আহত হন।
ঘটনার পর খবর পেয়ে নানুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বোমাবাজি, আগুন লাগানো এবং হুমকির চিঠির ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত বীরভূম। তবে, এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, বোমাবাজির উদ্দেশ্যই বা কি ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পুলিশের তদন্তের দিকে নজর স্থানীয়দের।