নয়াদিল্লি: অনশনরত অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায়। শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু তাতেও দমে যাননি লাদাখের পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বরং সংসদ অভিযানের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে পাঠালেন এক আবেগঘন বার্তা। তাঁর আবেদন, ‘আমাকে বাঁচাতে নয়, দেশকে বাঁচাতে রাস্তায় নামুন। এ লড়াই একজন মানুষের নয়, দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।’
সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির আগে হাসপাতাল থেকেই হাতে লেখা বার্তায় ওয়াংচুক জানান, তাঁর আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কোনও ব্যক্তিগত দাবি নয়। লাদাখের পরিবেশ, হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্র এবং মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তিনি আপসহীন। তাঁর কথায়, “যদি আমাকে ভালোবাসেন, তা হলে আমার জন্য উদ্বিগ্ন না হয়ে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করুন।”
দীর্ঘ অনশনের জেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনের পথ থেকে তিনি সরে দাঁড়াবেন না। তাঁর দাবি, দেশের সামনে আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘ভয়ের রাজনীতি’ এবং ‘অন্যায়ের স্বাভাবিকীকরণ’। সেই কারণেই তিনি এই আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াই’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ থাকার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বার্তা, “রাগ নয়, ঘৃণা নয়— সংবিধানের শক্তিতেই জিততে হবে।” কোনও উস্কানিতে পা না দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন তিনি।
ওয়াংচুকের আন্দোলন শুরু হয় লাদাখকে পূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে। গত কয়েক মাসে সেই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমর্থন পেয়েছে। ছাত্র, সমাজকর্মী, পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, সংসদ অভিযানের আগে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ব্যারিকেড এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে হাসপাতাল থেকেই ওয়াংচুক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, আন্দোলনের শক্তি সংঘর্ষে নয়, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর মুখে ওয়াংচুকের এই বার্তা রাজনৈতিক মহলেও নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে। অনেকের মতে, লাদাখের দাবি ছাড়িয়ে এই আন্দোলন এখন পরিবেশ, গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকারের বৃহত্তর বিতর্কের প্রতীক হয়ে উঠছে।