নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। মঙ্গলবার রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি-র ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল।
হাসপাতালে যাওয়ার আগে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। রাহুলের বক্তব্য, "দেশের তরুণদের সঙ্গে এ ভাবে আচরণ করা যায় না। তাঁদের সামনে সুযোগের দরজা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাই ছিল তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম ভরসা, সেটিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শুধু পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তাঁর কথায়, "এই পড়ুয়ারা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করছেন না, তাঁরা তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। ভারতের বহু তরুণ মনে করছেন, দেশে তাঁদের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। তাঁদের এই প্রতিবাদ যথার্থ।"
এদিন রাহুল গান্ধী আরএসএস-এর বিরুদ্ধেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির নাম উল্লেখ করে শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্পোরেট প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাহুলের স্পষ্ট বক্তব্য, "ধর্মেন্দ্র প্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।" তাঁর অভিযোগ, তরুণদের ক্ষোভের মূল কারণ শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা।