প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় খোদ বিরোধী দলনেতা। একদিন আগে এই বিরল ঘটনার সাক্ষী ছিল রাজধানী। তবে রাহুল গান্ধীর এই বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন অনশনরত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল করে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে।
মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবন থেকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবন, ৭ লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে মিছিল করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। তবে আশ্বাস সত্ত্বেও কংগ্রেস তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে যে প্রতিবাদ হয়েছে, তাতে সততার অভাব ছিল। মানুষকে এভাবে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। দেশের যুবসমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল সোনম ওয়াংচুকের জনপ্রিয়তাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, “এই ধরনের কপট রাজনীতি সফল হবে না। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়ুয়াদের ন্যায্য দাবি এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার।” গীতাঞ্জলি বলেন, “যদি সত্যিই পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে হতো, তা হলে রাজনৈতিক নেতাদের যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করা উচিত ছিল। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল প্রকৃত সংহতির পরিচয়।”
তিনি আরও জানান, সোনম ওয়াংচুকের অনশন টানা ২৬ দিন ধরে চলছে। তাঁর দাবি, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে। গীতাঞ্জলির কথায়, “আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও শাসক বা বিরোধী দলকে আক্রমণ করা নয়। আমরা চাই সংসদ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করুক এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনুক।” তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক নেতাদের শুধু বক্তব্য রাখলেই হবে না, তাঁদের নিজেদের কথার সঙ্গে কাজেরও মিল থাকতে হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে এই আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চাইলে মানুষ তা গ্রহণ করবে না।”