নিউজ ডেস্ক: সিজেপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিকল্পিত বিক্ষোভ শুরুর আগেই রাজধানীতে কড়া পদক্ষেপে নামল পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী। ধৌলা কুয়া সংলগ্ন এলাকায় জমায়েতের চেষ্টা করতেই বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিক পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটরও রয়েছেন বলে জানা গেছে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলের ভিজ্যুয়াল সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচি শুরুর আগেই নির্দিষ্ট স্থানে এসে উপস্থিত হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু কোনওরকম জমায়েত বা মিছিলের অনুমতি না থাকায় নিরাপত্তাবাহিনী তৎক্ষণাৎ তাঁদের ঘিরে ফেলে। এর পরই শুরু হয় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। বেশ কয়েকজন মহিলা বিক্ষোভকারীকে দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকা মহিলা পুলিশকর্মী ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা ব্যারিকেড গড়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেন।
https://x.com/ANI/status/2108778096002507209
এক আন্দোলনকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা কেন অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং কেন তাঁদের এভাবে আটক করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এই আশঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
এর পরই শুরু হয় আটকের প্রক্রিয়া। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের হাত ধরে টেনে এনে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা বিশেষ বাসে তুলতে শুরু করেন। এই সময় এক মহিলা আন্দোলনকারী জোর করে বসে পড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলে তাঁকে প্রায় চ্যাংদোলা করে বাসের দরজার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বাসের সিঁড়িতে দাঁড়িয়েও অনেকে পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন।
নিরাপত্তাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের নিরাপদে বাসের ভেতর বসার নির্দেশ দেন এবং শেষ পর্যন্ত সবাইকে বাসে তুলে সংশ্লিষ্ট এলাকা খালি করে দেওয়া হয়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনওরকম জমায়েত বা বিক্ষোভ করতে দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। আটক সকলকেই নিকটবর্তী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর ধৌলা কুয়া ও পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
