নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ওয়েস্টার্ন রেঞ্জ-১ (WR-I) শাখা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালায়। তদন্তকারীদের কাছে খবর ছিল, ৮ সেপ্টেম্বর দিল্লির মুন্ডকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া মেট্রো স্টেশনের কাছে জাল ২০ টাকার কয়েনের একটি বড় চালান সরবরাহ করা হবে। সেই সূত্র ধরেই ওই এলাকায় নজরদারি শুরু করে পুলিশ।
অভিযুক্ত পারস জৈনকে একটি টয়োটা ইটিওস গাড়িতে আসতে দেখে আটক করা হয়। গাড়ির পিছনের আসনে রাখা একটি কালো ল্যাপটপ ব্যাগ ও প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে উদ্ধার হয় ৫০টি পলিথিনের পাউচ। প্রতিটি পাউচে ছিল ১০০টি করে নকল ২০ টাকার কয়েন। অর্থাৎ মোট ৫ হাজার কয়েন, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা। অভিযানে একটি আইফোন এবং কয়েন পরিবহণে ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
https://x.com/iAtulKrishan1/status/2116814434584957048?a=fivMMuxnJ0-tiYd0SpQ&s=20
পুলিশি জেরায় পারস জানায়, পাঞ্জাবের মহালির বাসিন্দা উপকার লুথরা ওরফে অভয় প্রতাপ সিংয়ের কাছ থেকে সে ওই জাল কয়েন সংগ্রহ করেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ১ লক্ষ টাকা মূল্যের নকল কয়েন প্রায় ৭০ হাজার টাকায় সরবরাহ করা হত। পরে সেগুলি বাজারে আসল কয়েন হিসেবে চালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশের অনুমান।
এরপর তদন্তের সূত্র ধরে মূল উৎপাদন চক্রের হদিস পায় পুলিশ। জানা যায়, হরিয়ানার সোনিপতে জাল কয়েন তৈরির একটি বেআইনি ইউনিট চালানো হচ্ছিল। পারস গ্রেফতার হওয়ার পর সেই কারখানাটি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন উপকার ও তাঁর সহযোগীরা। কিন্তু সাহারানপুর পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের হাতে ধরা পড়ে যায় তারা।
পরে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের মাধ্যমে উপকার লুথরা, অনুরাগ পাল ও জনার্দন কুমার চৌরাসিয়াকে দিল্লিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে তাঁদের ভূমিকা সামনে আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পারস জৈন মূলত কয়েন সরবরাহের দায়িত্বে ছিল বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, উপকার লুথরার বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক জাল কয়েন সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। পারসের বিরুদ্ধেও আগে দুটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭৯, ১৮০, ৬১(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বর্তমানে চার অভিযুক্তই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, কতদিন ধরে এই কারবার চলছিল এবং দেশের কোন কোন এলাকায় জাল কয়েন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।




