নিউজ ডেস্ক: বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের নিশানায় এবার সংবাদমাধ্যমের একাংশ। তাঁর ধর্মীয় মন্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা করে খবর প্রকাশের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে করা ভক্তিমূলক উচ্চারণকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা অত্যন্ত অসম্মানজনক। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিগ বি।
ঘটনার সূত্রপাত অমিতাভের ‘হাতি ঘোড়া পালকি, জয় কানহাইয়া লাল কি’ মন্ত্র উচ্চারণকে কেন্দ্র করে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করতেই তিনি প্রায়শই এই মন্ত্র জপ করেন। কিন্তু তাঁর এই ধর্মীয় উচ্চারণকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি নাকি বিরোধীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘হাতি-ঘোড়া নিয়ে চলে আসুন’ ধরনের বক্তব্যকে প্রতিপক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এই ব্যাখ্যাতেই আপত্তি জানিয়েছেন অমিতাভ। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, কৃষ্ণ কানাইয়ার উদ্দেশে প্রার্থনা হিসেবেই তিনি এই মন্ত্র উচ্চারণ করেন। অথচ সংবাদমাধ্যমের একাংশ নিজেদের প্রচারের জন্য সেই কথার অসম্মান করে সম্পূর্ণ অন্য অর্থে খবর প্রকাশ করছে। তাঁর কথায়, “ওই মন্ত্রের নির্দিষ্ট ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। অথচ সেটিকে বিকৃত করে এমনভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে, যেন তিনি বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।”
এখানেই থামেননি বিগ বি। সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভুল খবর প্রকাশের পর তা স্বীকার করে সংশোধন করার পরিবর্তে কিছু সংবাদমাধ্যম যেন নিজেদের ভুলকেই স্বাভাবিক অধিকার বলে মনে করছে। এই ধরনের আচরণকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন অভিনেতা।
পোস্টের আরও একটি অংশে নিজের অনুরাগীদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন অমিতাভ। তাঁর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশও যদি তাঁর ইঙ্গিত পান, তাহলে তাঁরা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। সংবাদমাধ্যম যত বেশি তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করবে, অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতাও তত বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। যদিও এই বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভের প্রেক্ষিতেই দেখা হচ্ছে।
নিজের বক্তব্যের শেষাংশে অমিতাভ জানান, ভুল মানুষের হতেই পারে। কিন্তু সেই ভুল বুঝতে পারলে ক্ষমা চেয়ে সংশোধন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, নিজের কষ্টকে প্রকাশ্যে এনে নিজেকে নির্যাতিত হিসেবে তুলে ধরতে চান না। তাঁর যন্ত্রণা একান্তই তাঁর নিজের।
ধর্মীয় আবেগ, সাংবাদিকতার দায়িত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের ভূমিকা, এই তিন বিষয়কে ঘিরে অমিতাভের সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।




