নিউজ ডেস্ক: টেলি অভিনেতা অনুজ ঠাকুর মাত্র ৩৩ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর বন্ধু রূপেশ সোনার জানিয়েছেন, ঘুমন্ত অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা। গত ২৭ অক্টোবর অনুজের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বন্ধু তথা কাস্টিং ডিরেক্টর রূপেশ সোনার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছেন। ৩৩ বছর বয়সি এই অভিনেতার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত রূপেশ। নিজের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, মাত্র ১০ দিন আগেই অনুজের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, খিঁচুনিজনিত সমস্যার কারণে অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে।
অনুজ ঠাকুরের মৃত্যু নিয়ে রূপেশ সোনারের পোস্ট
‘ধুম মাচাও ধুম’, ‘বন্ধন সাত জনম কা’, ‘বিন্দ বনুঙ্গা ঘোড়ি চড়ুঙ্গা’ এবং ‘মহিসাগর’-এর মতো ধারাবাহিকে কাজ করেছেন অনুজ ঠাকুর। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে রূপেশ লিখেছেন, “এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না যে তুমি আর আমাদের মধ্যে নেই। তুমি শুধু বন্ধু ছিলে না, আমার ছোট ভাইয়ের মতো ছিলে। আমাদের একসঙ্গে অনেক প্রজেক্ট করার পরিকল্পনা ছিল। তোমার শুরুর দিনগুলোর সংগ্রাম এবং তোমার পুরো যাত্রাপথ আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। জীবন সত্যিই অনিশ্চিত। তুমি এত তাড়াতাড়ি চলে গেলে—এটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। এই খবরটা যেন অবাস্তব মনে হচ্ছে। ভাই, তোমাকে সবসময় মনে রাখব। শান্তিতে থেকো।”
এই খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টেলি অভিনেতা ভাকার শেখ মন্তব্য করেন, “ওহ ঈশ্বর! এটা অবিশ্বাস্য! শুনে খুব খারাপ লাগছে। আমি ওকে ওর শুরুর দিনগুলো থেকেই চিনতাম। খুব মিষ্টি ও ভালো মানুষ ছিল। ওর আত্মার শান্তি কামনা করি।”
‘বিগ বস ১৮’-এর প্রতিযোগী ইয়ামিনী মালহোত্রাও লিখেছেন, “এ কী বলছেন? এটা কীভাবে সম্ভব? ও তো খুব হাসিখুশি একটা ছেলে ছিল!”
অনুজের সঙ্গে ১৭ বছরের সম্পর্কের কথা জানালেন রূপেশ
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে কথা বলার সময় রূপেশ জানান, ২০০৮ সাল থেকে তিনি অনুজকে চিনতেন। এমনকী, তাঁরা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি শোতেও কাজ করেছেন। মৃত্যুর মাত্র ১০ দিন আগেই শেষবারের মতো অনুজের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর।
রূপেশ আরও জানান, শুক্রবার রাতে এক পরিচিত বন্ধুর কাছ থেকে তিনি অনুজের মৃত্যুর খবর পান। তাঁর কথায়, অভিনেতা খিঁচুনিজনিত সমস্যায় (সিজার) আক্রান্ত হয়েছিলেন।
রূপেশ বলেন, “আমি শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম যে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর তিনি আর জেগে ওঠেননি। শনিবার আমি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করি। তাঁদের মধ্যে তাঁর মা ও ভাইও ছিলেন। তখনই জানতে পারি, অনুজ খিঁচুনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সেই অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অনুজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতেন। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৪টেয় উঠে তিনি নিজের নিয়মিত রুটিন মেনে চলতেন, যার মধ্যে শরীরচর্চা ও জগিংও ছিল। কিন্তু ওই দিন সকালে তিনি আর ঘুম থেকে ওঠেননি। ভোর সাড়ে ৪টেয় তাঁর অ্যালার্ম বেজে ওঠে। এরপর তাঁর মা তাঁকে ডাকতে ঘরে গিয়ে দেখেন, তিনি আর বেঁচে নেই।”
রূপেশ আরও বলেন, “আমি অনুজকে ২০০৮ সাল থেকে চিনি। আমাদের প্রথম শো ‘বন্ধন সাত জনম কা’-তে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। এরপর আরও বেশ কয়েকটি শোতে একসঙ্গে কাজ করেছি। সে যে আর নেই, তা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। মাত্র ১০ দিন আগেই তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন সে আবারও কাজে ফেরার কথা বলছিল।
২০০৮ সালে তার মধ্যে যে উৎসাহ দেখেছিলাম, এখনও ঠিক তেমনটাই ছিল। সে সবার সঙ্গে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে কথা বলত এবং প্রত্যেককে যথাযথ মর্যাদা দিত। সে ছিল উদার, হাসিখুশি ও পরোপকারী। সে একজন অসাধারণ মানুষ ছিল, আমার ছোট ভাইয়ের মতো। কেন তাকে এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যেতে হল, তা আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।”




