দিল্লি, নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে উত্তেজনা। কর্মসূচির আগেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক প্রশাসনও। বিক্ষোভের দিন যতই এগিয়ে আসছে, তত বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।
আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি এবং কয়েকটি যুব সংগঠন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যেক এবং দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। আয়োজকদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে হবে। কিন্তু, তাঁর আগেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওগুলিতে কয়েকজন লাঠি হাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আহ্বান জানাতে দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করার হুমকি ও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি, একটি ভিডিওতে 'হিন্দু অরুণ যাদব' নামে এক ব্যক্তিকে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে শারীরিকভাবে সক্ষম পুরুষদের একত্রিত হওয়ার ডাক শোনা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের 'দেশবিরোধী' বলে আক্রমণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ স্থলে হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্দোলনকারীরা। সিজেপির নেতা সৌরভ দাস দিল্লি পুলিশের কাছে হুমকি দাতাদের বিরুদ্ধে আগাম পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অন্যদের সংঘাত জড়িয়ে দিয়ে দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হতে পারে। সংগঠনের সহ-আহবায়ক আশুতোষ রাঙ্কাও দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের নিশানা করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে উগ্রপন্থী মনোভাবাপন্ন গোষ্ঠীকে সংগঠিত করা হচ্ছে। তবে, এই অভিযোগ গুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ভিডিও গুলির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। হিংসায় উস্কানি, ঘৃণামূলক বক্তব্য কিংবা হুমকির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি, আইন ভাঙ্গার চেষ্টা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, সমাজমাধ্যমে এই ভিডিও গুলির ভিত্তিতে এখনও কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এখন প্রধান প্রশ্ন, উত্তেজনার আবহাওয়া কাটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না। তাই, এখন নজর রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ জানার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই, সেই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের হিংসা বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়াকে নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন কি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ সরিয়ে যন্তর মন্তরে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকে কি না, তার উত্তর মিলবে শনিবারই।