কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল রাজধানী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার, গান্ধী জয়ন্তীর দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে শামিল হলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র সংগঠনের সদস্য এবং সমাজকর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভস্থলের দিকে এগোতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা এবং আম আদমি পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতা-সহ ৫০০-রও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, অতিশী এবং সঞ্জয় সিং। ছিলেন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-ও। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সেই অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে দিল্লি পুলিশ আগেই এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তরের আশপাশে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় একাধিক রাস্তা। এমনকি বিক্ষোভকারীদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে ড্রোনও ব্যবহার করে পুলিশ। সকাল থেকেই মেট্রো পরিষেবাতেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়। জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক-সহ মোট ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ রাখা হয়। অন্য দিকে, মধ্য দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যন্তর মন্তরে পৌঁছতে বাধা পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। কেউ কেউ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন আইসার নেত্রী নেহা বোরা এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও। তাঁদেরও আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়ার আগে নেহার সঙ্গে পুলিশকর্মীদের বচসা হয় বলে খবর। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি অভিযোগ করেন, প্রতিবাদীদের আটক করার পরিবর্তে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারকেই গ্রেফতার করা উচিত। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। অন্য দিকে, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েক জন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মধ্যে এক ব্যক্তি জানান, পরিবারের সকলের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁর নিজের নাম বাদ পড়েছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছতে দেয়নি। এক ছাত্রের অভিযোগ, ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রতিবাদ জানানোর অধিকারও খর্ব করা হচ্ছে। তবে পুলিশ নিষেধাজ্ঞা জারির কারণেই এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে।
দিল্লির পাশাপাশি শুক্রবার বিক্ষোভের আঁচ ছড়ায় মুম্বইয়েও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জ়নতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ স্থগিত রাখা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। তবে শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। তা সত্ত্বেও শুক্রবার দুপুরে সেখানে পৌঁছন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। অন্য দিকে, মহারাষ্ট্রের পালঘরের একটি আইনজীবী সংগঠন আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র দিগম্বর দেশাই জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হলে তাঁরা বিনামূল্যে আইনি সহায়তা করবেন। মুম্বইয়ের পর দেশের আরও ছ’টি শহরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে সিজেপির। অক্টোবরের শেষের দিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শেষ করার কথা তাদের। ফলে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক আগামী দিনেও রাজনৈতিক ও নাগরিক পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।
