কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছিল রাজধানী দিল্লিতে। আর এই আবহে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করলেন বিখ্যাত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই তিনি বলেন এটা তার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন। এরপরেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। ধ্রুব রাঠি দাবি করেছেন, "তাকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি বরং অপহরণ করা হয়েছিল"। রাঠির এই বক্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে সকলের উদ্দেশ্যে সিজেপির আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ধ্রুব। তিনি বলেন, শনিবার সকাল সাতটা নাগাদ তিনি নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় সাধারণ পোশাকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে ঢোকেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় স্পষ্ট করেননি এবং তাঁকে কোনও পরোয়ানা দেখাননি। তিনি আরও দাবি করেন, “তাঁকে বেডরুম থেকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তিনি আঘাত পান।”
https://www.facebook.com/share/v/19f93x8L2B/
রাঠির আরও অভিযোগ, "তাঁকে প্রথমে একটি পুলিশ স্টেশনে এবং পরে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ও তাঁর বাবা-মায়ের ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ থেকে ২৩ ঘণ্টা তিনি পুলিশের হেফাজতে ছিলেন এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাননি। এই ঘটনাকেই তিনি ‘অপহরণ’ বলে বর্ণনা করেন। শুধু তাই নয় তার বাবাকেও আঘাত করার অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি স্পষ্ট জানতে চান কোন অপরাধের ভিত্তিতে তার সাথে এই ধরনের ব্যবহার করা হয়েছে তার জবাব পুলিশকে দিতে হবে। রাঠির এই সাংবাদিক সম্মেলনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়।
মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি শনিবার যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিজেপি সমর্থকরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পাশাপাশি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বহু বহু বিরোধী দলগুলি। অনেক সেলিব্রিটি ও তাদের আত্মীয়রাও ছিলেন প্রতিবাদের সমর্থক। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আর সেখানে বাদ পড়েনি প্রতিবাদী ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি।
আন্দোলনের দিন শুধু প্রতিবাদকে ঘিরে প্রতিবাদকারীদের আটক করা হয়নি। পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দিল্লিতে। ট্রেন, বাস, মেট্রো পরিষেবা বন্ধ ছিল বেশিরভাগ জায়গাতে। যাকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় বিতর্কে সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে ধ্রুব রাঠির আটক এবং পরবর্তী অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার তৈরি করেছে দিয়েছে।
এই ঘটনার পরেই বর্তমান সরকারের আমলে নাগরিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
