নিউজ ডেস্ক: মায়ের আসার আনন্দটা যতটা আনন্দের, তার থেকেও বেশি কষ্টের মায়ের বিদায় মুহূর্ত। আনন্দ-উৎসবের দিনগুলো নিমেষেই পেরিয়ে অবশেষে পৌঁছাল অন্তিম প্রহরে। সিঁদুর খেলা, মিষ্টিমুখ আর বিষাদের সুরকে সঙ্গী করে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই চলছে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর পালা। ঢাকের গম্ভীর বোলে আকাশ-বাতাস ভারী, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের চোখে জল আর অন্তরে একটাই প্রার্থনা, ‘আসছে বছর আবার এসো মা’। আজই প্রতিমা নিরঞ্জনের শেষ দিন। ফলে সকাল থেকেই প্রধান নদীঘাট ও জলাশয়গুলিতে ভিড় জমতে শুরু করেছে। এই আবহে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুরসভার পক্ষ থেকে ঘাটগুলিতে আঁটোসাঁটো নজরদারি ও একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনেই প্রতিটি পুজো কমিটিকে ঘাটে প্রতিমা নিয়ে পৌঁছাতে হবে। শহরের মূল রাস্তাগুলিতে যানজট এড়াতে শোভাযাত্রার জন্য বিশেষ রুট নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ আদালতের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার লক্ষ্যে বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেন ও পুরকর্মীদের সহায়তায় কাঠামো জল থেকে তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ফুল, বেলপাতা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য পুজোর বর্জ্য যাতে কোনোভাবেই সরাসরি জলে না ফেলা হয়, সেজন্য ঘাটের বাইরেই বড় আকারের পৃথক পাত্র রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে রিভার ট্রাফিক পুলিশ, ডুবুরি এবং স্পিডবোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অসাবধানতাবশত কেউ যাতে গভীর জলে না যান, সেজন্য বাঁশের শক্ত ব্যারিকেড দিয়ে বিপজ্জনক এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি চালাতে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
শোভাযাত্রা এবং ঘাট চত্বরে নিষিদ্ধ ডিজে বাজানো ও অতিরিক্ত শব্দের বাজি ফাটানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঘাট সংলগ্ন চত্বরে মোতায়েন রাখা হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যশিবির।
প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, শান্তিপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মায়ের বিদায়পর্ব সম্পন্ন করতে পুলিশ, পুরসভা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল একযোগে কাজ করছে। সমস্ত পুজো কমিটিকে নিয়ম মেনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।




