বিশেষ প্রতিবেদন: দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এ এক সামাজিক মিলনমেলা। পাড়ার মণ্ডপ তৈরি থেকে প্রতিমা গড়া, আলোকসজ্জা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রতিটি ক্ষেত্রেই জড়িয়ে থাকেন নানা পেশা, সম্প্রদায় ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষ। তাই কলকাতার দুর্গাপুজোকে ঘিরে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রশ্নও বারবার সামনে আসে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে কি বদলাচ্ছে পুজো কমিটিগুলির অংশগ্রহণের ধরন? মণ্ডপ তৈরির কাজে কারা যুক্ত হচ্ছেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, আর পুজো পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা বিস্তৃত অংশগ্রহণ রয়েছে এই প্রশ্নগুলি নিয়েই নতুন করে আলোচনা হতে পারে।
২০২৬-এ আলোচনার কেন্দ্রে পুজো কমিটির অংশগ্রহণ
১৬ অক্টোবর প্রকাশিত The Times of India-র একটি প্রতিবেদনে কলকাতার কয়েকটি পুজো কমিটিতে মুসলিম সদস্যদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া বা তাঁদের বাদ পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে একই প্রতিবেদনে এমন কিছু পুজোর কথাও রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এখনও বজায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ আলিপুরের ৭৮ পল্লি। সেখানে আগে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের চাঁদা সংগ্রহ, মণ্ডপ নির্মাণ এবং ভোগ বিতরণের কাজে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন কমিটিতে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতার কয়েকটি পুজোয় মুসলিম সদস্যদের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকার কথাও উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পুজো কমিটির গঠন ও পরিচালনার ধরন কি বদলাচ্ছে? নাকি বিভিন্ন এলাকার সামাজিক ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে উৎসবের ব্যবস্থাপনায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে স্থানীয় বাসিন্দা, পুজো উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির বক্তব্যও শোনা জরুরি।
সম্প্রীতির ঐতিহ্য কি এখনও অটুট?
কলকাতার দুর্গাপুজো বহু বছর ধরেই শিল্পী, কারিগর, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থীদের মিলনক্ষেত্র। ২০২১ সালে UNESCO দুর্গাপুজোকে মানবতার অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। উৎসবটির শিল্পভিত্তিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণও তার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সম্প্রীতির মূল্যায়ন করতে শুধু মণ্ডপে সব সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি দেখলেই হবে না। পুজোর পরিকল্পনা, অর্থ সংগ্রহ, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ কতটা রয়েছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতার দুর্গাপুজোয় সম্প্রীতির ছবিতে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তার উত্তর একক কোনও ঘটনা দিয়ে দেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন কিছু পুজো কমিটিতে অংশগ্রহণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, আবার অন্যত্র যৌথ উদ্যোগের ধারাও রয়েছে। তাই সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও স্থানীয় তথ্য ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য জরুরি।





