নিউজ ডেস্ক: স্টারলিঙ্ককে ভারতে প্রবেশে কিছু গোষ্ঠী বাধা দিচ্ছে ইলন মাস্কের এমন অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় সরকার। মাস্কের নাম না করেই যোগাযোগ মন্ত্রক জানিয়ে দিল, ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সহ সমস্ত টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য রয়েছে ‘সুষ্ঠু ও বৈষম্যহীন’ নিয়ন্ত্রক কাঠামো। ফলে স্টারলিঙ্ককে আলাদা করে কোনও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে এমন দাবির সঙ্গে কেন্দ্রের বক্তব্যের স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাতে নিজের সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডলে স্টারলিঙ্ক নিয়ে একটি পোস্ট করেন ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি ছিল, কিছু গোষ্ঠী ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু করার পথে বাধা তৈরি করছে। তবে কারা সেই বাধা তৈরি করছে, তা স্পষ্ট করে জানাননি তিনি। বরং ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে লেখেন, বিষয়টি মানুষ নিজেরাই বুঝে নিক।
মাস্কের এই মন্তব্যের পরেই বৃহস্পতিবার বিবৃতি জারি করে কেন্দ্র। যোগাযোগ মন্ত্রকের বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে ভারতের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সমস্ত টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারীর ক্ষেত্রেই একই ধরনের নিয়ন্ত্রক কাঠামো কার্যকর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ভারতে টেলিকম পরিষেবা দেওয়ার জন্য লাইসেন্স পাওয়া সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। সাধারণ গ্রাহক এবং তাঁদের তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থাৎ কোনও সংস্থাকে পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।
স্টারলিঙ্ক দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। ২০২২ সাল থেকে অপেক্ষার পর ২০২৫ সালের জুনে সংস্থাটি ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি লাইসেন্স পায়। তবে লাইসেন্স পাওয়ার পরেই যে পরিষেবা চালু করা যাবে, এমন নয়। বর্তমানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে মোট তিনটি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে।
এদিকে ভারতের বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়ে রেখেছে স্টারলিঙ্ক। দেশের দুই বড় টেলিকম সংস্থা এয়ারটেল এবং রিলায়্যান্স জিয়োর সঙ্গে মাস্কের স্পেসএক্সের চুক্তিও হয়েছে। তবে সেই চুক্তি ছিল শর্তাধীন ভারত সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও স্পেকট্রাম সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই পরিষেবা চালুর কথা।
এরই মধ্যে মাস্ক দাবি করেছেন, ভারতের যাঁরা বর্তমান বাজারদরে ইন্টারনেট পরিষেবা কিনতে পারছেন না কিংবা এখনও ইন্টারনেট পরিষেবার আওতার বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য কম খরচে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে চায় স্টারলিঙ্ক।
ফলে মাস্ক বনাম কেন্দ্রের এই টানাপড়েনে এখন মূল নজর স্টারলিঙ্কের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দ কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
