নিউজ ডেস্ক: আকাশে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় এক অভূতপূর্ব প্রাণঘাতী হামলার সাক্ষী থাকল আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি যাত্রীবাহী বিমানে সহ-পাইলটের ধারালো অস্ত্রের এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত হলেন প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছর। গুরুতর জখম হয়েও অসীম সাহসিকতায় বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে শত শত যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেন এই ভারতীয় বিমানচালক। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে এর নেপথ্যে থাকা চক্রকে চরম মূল্য চোকাতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে দুবাই থেকে আকাশে ওড়ে বিমান সংস্থাটির এফজ়েড ১০৭৩ বিমানটি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা নির্বিঘ্নে যাত্রার পর হঠাৎই ককপিটের ভেতরে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন সহকারী চালক। ধারালো অস্ত্র নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন পাইলট স্মিতের ওপর। মাথা, হাত ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত সহ্য করেও সহকারীকে বিমান ধ্বংসের সুযোগ দেননি রক্তাক্ত স্মিত। পরবর্তীতে বিমানে থাকা এক চিকিৎসকের সহায়তায় প্রাথমিক শুশ্রূষা পান তিনি এবং বিমানটিকে দ্রুত সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাঁকে বর্তমানে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্মিত মচ্ছরের এই অতুলনীয় রণকৌশল ও উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
এদিকে, আমেরিকার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ধৃত আক্রমণকারী চালক ইসলামি চরমপন্থার শিকার হয়েছিলেন এবং বিমানটি ধ্বংস করে আত্মঘাতী হওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। নেতানিয়াহুর দাবি, ঘটনাটির গভীরে গিয়ে দেখা হচ্ছে কার বা কাদের মদতে এই হীন চক্রান্ত রচিত হয়েছিল। হামলাকারীকে যারা পাঠিয়েছিল, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজ়রায়েল উভয় দেশই পৃথকভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চালাচ্ছে। মুম্বইয়ে নিযুক্ত ইজ়রায়েলি কনসাল জেনারেল একে সরাসরি এক নৃশংস ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।