টানা ২৬ দিনের অনশন। দাবি ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস-কাণ্ডের নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ছাত্রদের ন্যায়বিচার। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হওয়ার আগেই যন্তর মন্তরে অনশন ভাঙলেন লাদাখের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা— সরকারের সঙ্গে কি কোনও সমঝোতা হয়েছে? সেই প্রশ্নেরই সরাসরি জবাব দিলেন ওয়াংচুক।
অনশন ভাঙার পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "এটি কোনও সমঝোতা নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।" তাঁর দাবি, আন্দোলনের উদ্দেশ্য কখনও কোনও ব্যক্তিকে পদচ্যুত করা ছিল না। মূল লক্ষ্য ছিল দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা।
ওয়াংচুকের কথায়, আন্দোলনের সময় সরকারের তরফে একাধিক দফায় আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র লিখিতভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেয়। তার মধ্যে ছিল, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এই লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে ওয়াংচুক বলেন, "পদত্যাগের দাবি এখনও রয়েছে। কিন্তু একটি আন্দোলনের সাফল্য শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে মাপা যায় না। যদি ব্যবস্থার কোনও পরিবর্তনই না হয়, তা হলে একজন মন্ত্রী চলে গেলেও সমস্যার সমাধান হবে না।"
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ অনশন চলতে থাকলে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনাও বাড়ছিল। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ইতিবাচক আলোচনার পথ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থেমে যাচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ওয়াংচুক। তাঁর কথায়, "এটি কোনও সমাপ্তি নয়, বরং আন্দোলনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।" সরকার যদি দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না করে, তবে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথেও হাঁটা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র সংগঠনগুলিও জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ-সহ সমস্ত দাবি বহাল রয়েছে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপরই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ভর করবে। ফলে অনশন শেষ হলেও, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ যে কমছে না, তা স্পষ্ট।