নিউজ ডেস্ক: রাত তখন গভীর। রাজধানীর রাজপথে যখন আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা আর প্রশাসনের কড়া নজরদারি, ঠিক তখনই মানবিকতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল শিখ সম্প্রদায়। চারপাশের যখন প্রায় সমস্ত দরজাই আন্দোলনকারীদের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন কোনো দ্বিধা ছাড়াই সবার জন্য অবারিত করে দেওয়া হলো গুরুদুয়ারা শ্রী বাংলা সাহেবের পবিত্র প্রাঙ্গণ।
১০ই অক্টোবরের গভীর রাতের এক দৃশ্য। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত তিনটে বেজে গেছে। বাইরে তীব্র উদ্বেগ আর আতঙ্কের পরিবেশ থাকলেও গুরুদুয়ারার ভেতরের শ্বেতপাথরের চত্বরে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। খোলা আকাশের নিচে সারি দিয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে রয়েছেন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত শত শত আন্দোলনকারী। কারও মাথায় ফেট্টি বাঁধা, কারও পাশে পড়ে রয়েছে আন্দোলনের প্রচারপত্র ও সাধারণ ব্যাগপত্র। দিনভর দীর্ঘ লড়াই, পুলিশের তাড়া আর অনিশ্চয়তার পর এই চত্বরই যেন হয়ে উঠেছিল তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
https://x.com/_jiddu/status/2109136337442160757?s=20
উপস্থিত আন্দোলনকারীদের কথায়, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে যখন অনেকেই তাঁদের মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন, সেই চরম সঙ্কটে কোনো বাছবিচার না করেই হাত বাড়িয়ে দেন গুরুদুয়ারা কর্তৃপক্ষ ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাঁদের শুধু মাথা গোঁজার জায়গাই দেওয়া হয়নি, একইসঙ্গে পরিবেশন করা হয়েছে গরম লঙ্গরের খাবার ও পানীয় জল। একই সাথে নিশ্চিত করা হয়েছে প্রত্যেকের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা।
গুরুদুয়ারার সেবকদের মতে, আর্ত ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল ধর্ম ও শিক্ষা। কে কোন মতাদর্শের বা কোন ধর্মের সেটি কখনোই বিবেচ্য নয়। রাতের নিস্তব্ধতায় গুরবানীর সুর যখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল, তখন সেই স্নিগ্ধ সুরের মাঝেই শত শত প্রতিবাদী ক্লান্তি ভুলে একটু বিশ্রামের সুযোগ পান।