কৃষ্ণনগর , রেশমি ব্যানার্জি: স্কুলের এক নাবালিকা পড়ুয়ার সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ওই পড়ুয়াকে যৌন হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ নাবালিকার পরিবারের। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায় এলাকায়। বুধবার কৃষ্ণনগরের একটি স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। পরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বৃষ্টির কারণে স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। অভিযোগ, সেই সময় ওই ছাত্রীকে আলাদা করে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক। এরপর চিপস, চকলেট ও লাড্ডুর লোভ দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, ওই পড়ুয়াকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি তাঁকে দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শরীরের বিভিন্ন অংশ টেপানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ভীত হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। তারপর বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে সবকিছু জানায় ওই ছাত্রী। এরপর বিষয়টি পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়তে স্কুল ও এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিভাবকদের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও পড়ুয়াদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে অনেকে ভয় পেয়েছেন। যদিও এই দাবি গুলির সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
বুধবার সকালে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে স্কুলের সামনে ভিড় করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। অভিযোগের বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ আধিকারিকেরা। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও পড়ুয়ার সঙ্গে অনুচিত আচরণ করেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নাবালিকার অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এখন পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা।