নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: জাতীয় মহাকাশ দিবসের আবহে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিতে বড়সড় বৃদ্ধির ছবি সামনে এল। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মহাকাশ অর্থনীতির বর্তমান পরিমাণ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। আগামী এক দশকে যা বেড়ে ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। শুধু মহাকাশ অর্থনীতিই নয়। গত এক যুগে এই ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগেরও প্রসার ঘটেছে দ্রুত। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় নথিভুক্ত মহাকাশ-ভিত্তিক স্টার্টআপ ছিল মাত্র একটি। ২০২৬ সালের অগাস্ট পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪৪০। ফলে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকাও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বেসরকারি বিনিয়োগের ছবিটাও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১০০.৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে তা প্রায় ছয় গুণ বেড়ে ৬১৮.৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুধু চলতি ২০২৬ সালেই ১৮৭ মিলিয়ন ডলার। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫২টি বেসরকারি সংস্থাকে মোট ১১৩টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১৮টি স্টার্টআপ। স্যাটেলাইট পরিচালনা, পেলোড তৈরি এবং উৎক্ষেপণ পরিষেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে তারা।
২০২০ সালে মহাকাশ ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়ার পরই এই বদলের সূচনা। পরে ২০২৩ সালের ‘ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি’ মহাকাশ-ভ্যালু চেনের আরও বিস্তৃত অংশে বেসরকারি অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করে। ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড বা এনএসআইএল উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি ইসরোর প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পে হস্তান্তর করে। সংস্থাটির আয় ২০২১-২২ অর্থবর্ষের ৩২১.৭৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। অন্য দিকে, এক জানলা ব্যবস্থায় বেসরকারি মহাকাশ কর্মকাণ্ডে অনুমোদন দেওয়া ইন-স্পেস ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শিল্প ও স্টার্টআপকে ইসরোর ৭১টি প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহায়তা করেছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে একাধিক আর্থিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়। স্যাটেলাইট তৈরি ও পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ, উৎক্ষেপণযান ও স্পেসপোর্টে ৪৯ শতাংশ এবং স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড-সেগমেন্ট উপাদানে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এফডিআইয়ের সুযোগ রয়েছে। ইন-স্পেসের সিড ফান্ড প্রাথমিক পর্যায়ের সংস্থাগুলিকে সহায়তা করছে। ১,০০০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং ৫০০ কোটি টাকার টেকনোলজি অ্যাডপশন ফান্ডও গড়ে তোলা হয়েছে। স্যাটেলাইট বাস তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে ‘স্যাটেলাইট বাস অ্যাজ আ সার্ভিস’ প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। গত তিন বছরে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত, ভারত ১২টি উৎক্ষেপণ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তাতে ১১টি ভারতীয় এবং ৯টি আন্তর্জাতিক গ্রাহকের স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মোদী-সরকারের আমলে মহাকাশ ক্ষেত্রে যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।