দিল্লি, নিউজ ডেস্ক : ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহর দিল্লি। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ এই শহরে যান নিজেদের প্রয়োজনে। দেশের প্রাণকেন্দ্র এই শহর বহু মানুষের রুটি রুজির অংশ। সেখানে ট্রেন যোগাযোগ মাধ্যম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এই ট্রেনের মাধ্যমেই অফিস যাত্রী থেকে নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া সকলেই যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়াও যারা বিভিন্ন প্রয়োজনে দিল্লি যান তাদের জন্য রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এবার ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। যানজটের আশঙ্কা করেই এই বড়সড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ভারতীয় রেল।
১০ অক্টোবর, অর্থাৎ শনিবার। এইদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল, এমন সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে। রেলের নির্দেশ অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৪ টে থেকে দুপুর ২ টোর মধ্যে ওই দুই স্টেশনে যে সমস্ত ট্রেনগুলিই পৌঁছানোর কথা রয়েছে সেগুলি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২ টোর পর সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা থাকা ট্রেনগুলিও এই সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে।
রেল সূত্রে প্রকাশিত নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২ টোর পরে যাত্রার উৎস স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল এবং শনিবার সকাল ৪ টে থেকে দুপুর ২ টোর মধ্যে দিল্লির ওই দুই স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল, এমন ট্রেনগুলি যাত্রার শুরুতেই বাতিল করা হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলির যাত্রাপথে মাঝপথে বাতিল নয়, বরং নির্ধারিত উৎস স্টেশন থেকেই পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
তীব্র যানজটের আশঙ্কা করেই রেলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ও যান চলাচলে বিধিনিষেধের আবহে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কারণ ১০ ই অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বুধবারই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সিজেপি–র নেতা সৌরভ দাস ডাক দিয়েছেন, ‘ব্যাগ প্যাক করে শনিবার ধর্নাস্থলে আসুন, এই প্রতিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে’। এই প্রতিবাদকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর তাতেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
এ বিষয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, দিল্লির প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে দেশজুড়ে হাজার হাজার তরুণকে আটক করেছে বিজেপি। দিল্লী পুলিশও একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, "এই ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। দেশের তরুণেরা আর ভয় পান না।"
এই ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত সব ট্রেনের ওপর প্রযোজ্য নয়। ১০ তারিখ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছনোর কথা থাকা মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের কথা বলা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষ। তাই যারা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন তাদেরকে ট্রেনের সময়সূচী যাচাই করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে রেলের পক্ষ থেকে।
১০ ই অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে দিল্লির এই আন্দোলনকে ঘিরে তৎপর দিল্লির পুলিশ প্রশাসন। সমস্ত জায়গাতেই রয়েছে কড়া নজরদারি।