কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে দাবি করলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। বুধবার দু’দিনের জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ সফরে এসে শ্রীনগরে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পরে গোর বলেন, ‘‘কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি প্রথমবার এখানে এলাম। জায়গাটি অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর।’’ তাঁর এই মন্তব্যকে নয়াদিল্লির অবস্থানের প্রতি তাৎপর্যপূর্ণ সমর্থন হিসাবেই দেখছে কূটনৈতিক মহল।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর সমাজ মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান ওমরও। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘‘আজ শ্রীনগরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরকে পেয়ে আমি আনন্দিত। জম্মু-কাশ্মীর এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে।’’ পর্যটন, উদ্যানপালন এবং ‘নতুন অর্থনীতি’র মতো ক্ষেত্রগুলিতে দুই পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি আগ্রহী বলেও জানান জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওমর জানান, কাশ্মীরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের কিছু ‘উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া’ সমস্যা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেগুলি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। ওয়াশিংটন, নয়াদিল্লি এবং শ্রীনগরের মধ্যে এই যোগাযোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্য দিকে, গোরের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে আমেরিকার জারি করা জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত ভ্রমণ-পরামর্শ। উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রশংসা করে তিনি জানান, আমেরিকা নিয়মিত তাদের ভ্রমণ-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পর্যালোচনা করে। ফলে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বর্তমান সতর্কবার্তা কমানো যায় কি না, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তবে এখনই কোনও বড় ঘোষণা করা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অপারেশন সিঁদুরের পর জম্মু-কাশ্মীরে গোরের এই প্রথম সফর। ফলে, তাঁর মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে উপত্যকাকে নিরাপদ গন্তব্য হিসাবে তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরেই ভ্রমণ-পরামর্শ শিথিল করার দাবি জানিয়ে আসছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। আমেরিকা যদি শেষ পর্যন্ত সেই সতর্কবার্তা কমায়, তা হলে আন্তর্জাতিক পর্যটন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা বড়সড় সুবিধা হতে পারে। আপাতত ভ্রমণ-পরামর্শে কোনও পরিবর্তন না হলেও, গোরের বক্তব্যে বিষয়টি যে ওয়াশিংটনের বিবেচনায় রয়েছে, তা স্পষ্ট।