খণ্ডবা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: মধ্যপ্রদেশের খণ্ডবায় বুধবারের জন শুনানিতে দেখা গিয়েছিল একেবারে অভিনব প্রতিবাদের ছবি। শরীর মানুষের, মুখে কুকুরের মুখোশ! পথকুকুরের বাড়বাড়ন্ত এবং তাদের বন্ধ্যাকরণ নিয়ে পুরসভার বিরুদ্ধে সরব হতে এমনই কুকর সেজে জেলাশাসকের সভাগৃহে হাজির হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। সঙ্গে ছিলেন খণ্ডবা পৌর নিগমের বিরোধী দলনেতা দীপক ওরফে মুল্লু রাঠৌর। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই জন শুনানিতে উপস্থিত অনেকেই চমকে যান। তবে নিছক মজা নয়, এই অভিনব প্রতিবাদের পিছনে ছিল পুরসভার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ।
অভিযোগ, খণ্ডবা শহরে পথকুকুরের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির নামে পুরসভা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। বরং শহরের বিভিন্ন এলাকায় পথকুকুরের দৌরাত্ম্য নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ বেড়েই চলেছে। সেই সমস্যার দিকেই প্রশাসনের নজর কাড়তে কুকুরের মুখোশ পরিয়ে এক ব্যক্তিকে জন শুনানিতে নিয়ে আসেন বিরোধী দলনেতা। প্রতীকী এই প্রতিবাদের মাধ্যমে পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়।
এর পর বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুল্লু রাঠোর বলেন, "অবশ্যই, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যদি কুকুরকে কেন্দ্র করে দেশে দুর্নীতি হয়ে থাকে এবং বিষয়টি নিয়ে এত উদ্বেগ ও দেশজুড়ে নানা মহলে সোচ্চার মতামত উঠে আসে, তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।" পৌরনিগমের বিরোধী দলনেতা এরই সঙ্গে সঙ্গে যোগ করেছেন, “সরকার যে প্রক্রিয়ায় কুকুর বন্ধ্যাকরণের কাজ চালাচ্ছে, তা পরিবর্তন করা উচিত। যাতে কুকুর বা মানুষ, কাউকেই কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।”
উল্লেখ্য, বুধবার অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি একটি চমকপ্রদ দাবিও করেছিলেন ‘কুকুর’ সেজে আসা ওই ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্যের প্রতীকী অর্থ ছিল—বন্ধ্যাকরণের দাবি করা হলেও বাস্তবে তার কোনও সুফল মিলছে না। তাই তিনি নিজেকে এমন এক ‘কুকুর’ হিসেবে তুলে ধরেন, যে বন্ধ্যাকরণের পরেও ছয় সন্তানের বাবা হয়ে গিয়েছে! এই অভিনব উপস্থাপনার মাধ্যমে পথকুকুরের বন্ধ্যাকরণ প্রকল্পে অনিয়ম, নজরদারির অভাব এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্ন সামনে আনা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
খণ্ডবার জন শুনানিতে এই অভিনব প্রতিবাদ স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সাধারণত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মানুষ স্মারকলিপি, স্লোগান বা বিক্ষোভের পথ বেছে নেন। কিন্তু এ দিন কুকুরের মুখোশ পরে প্রতিবাদ জানিয়ে পথকুকুর সমস্যাকে অন্য মাত্রায় তুলে ধরলেন প্রতিবাদকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, শহরের মানুষের নিরাপত্তা এবং পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। শুধু কাগজে-কলমে বন্ধ্যাকরণ বা বিপুল অর্থ খরচ করলেই হবে না, তার বাস্তব ফলও দেখতে হবে। জনশুনানিতে অভিনব এই প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকে কতটা নাড়িয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার।